যদুভট্ট চলচ্চিত্র

যদুভট্ট চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র
- প্রযোজনা- সানরাইজ পিকচারস।
- কাহিনি ও চিত্রনাট্য — নিতাই ভট্টাচার্য।
- পরিচালনা- নীরেন লাহিড়ী।
- সংগীত পরিচালনা — জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ।
- গীতিকার — রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, মীরাবাই, যদুভট্ট, গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার, প্রকাশ।
- চিত্রগ্রহণ – বিজয় ঘোষ।
- শিল্প নির্দেশনা – সুধীর খান।
- শব্দগ্রহণ—জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়।
- সম্পাদনা – সন্তোষ গঙ্গোপাধ্যায়।
অভিনয়—
বসন্ত চৌধুরী, সমরকুমার, ছবি বিশ্বাস, অজিত প্রকাশ, নীতীশ মুখোপাধ্যায়, প্রশান্তকুমার, রঞ্জন মুখোপাধ্যায়, ব্রতীন্দ্রনাথ ঠাকুর, তুলসী চক্রবর্তী, অনুভা গুপ্তা, যমুনা সিংহ, রানী বন্দ্যোপাধ্যায়, অপর্ণা দেবী।

নেপথ্য কণ্ঠ—
রমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, মৈনুদ্দিন ডাগর, তারাপদ চক্রবর্তী, এ. কানন, পণ্ডিত মণিরাম, সুখেন্দু গোস্বামী, বিমলাপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়, পণ্ডিত জয়রাজ, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, প্রশান্ত কুমার প্রভৃতি।
যন্ত্রসংগীত —
পণ্ডিত রবিশঙ্কর, বীরেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, ওস্তাদ কেরামতুল্লা, মহম্মদ সাগীরুদ্দীন, দক্ষিণ্যামোহন ঠাকুর, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত প্রভৃতি।
কাহিনি—
বিষ্ণুপুর রাজ্যের সভাগায়ক গদাধর চক্রবর্তী (ছবি) কাশীতে নিখিল ভারত সংগীত মহাসম্মেলনে যোগদান করতে গিয়েও উদ্যোক্তাদের তাচ্ছিল্যে ব্যর্থ মনোরথ হয়ে ফিরে আসেন। গদাধরের সাথে ছিলেন বালক যদুনাথ ভট্টাচার্য (সমর কুমার) যদুনাথ গুরুর অপমানের প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
প্রতিভাধর যদুনাথ যে কোনো গান শুনলেই আয়ত্ত করে নিতে পারেন। গুরুর কাছে শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি পশ্চিমের ওস্তাদদের কাছে সংগীত শিক্ষা নিতে চাইলেও ওস্তাদরা কোনো বাঙালিকে ছাত্র হিসাবে গ্রহণ করতে রাজি নন। যদুনাথ (বসন্ত) চুরি করে গান শুনেই তাদের শিক্ষা আয়ত্ত করেন।
মালীর ছদ্মবেশে যদু তৎকালীন ভারতের শ্রেষ্ঠ সংগীত প্রতিভা আলি বক্সের (নীতীশ) শিক্ষা আত্মস্থ করেন। শেষ পর্যন্ত আলী বক্স নিজ পুত্রের সাথে যদুনাথকেও তাঁর ঘরানার শ্রেষ্ঠ প্রতিনিধি হিসাবে স্বীকার করে নেন। যদুর সাথে দেখা হয় ঝিমন বাঈয়ের (অনুভা)। ঝিমনের সান্নিধ্যে যদু আরও সমৃদ্ধ হন।
যদুর প্রতিভা ভারতের বিভিন্ন রাজদরবারে স্বীকৃতি অর্জনে সমর্থ হয়। সংগীত মহা সম্মেলনে যদুনাথ গুরুর অপমানের শোধ নেন এবং সংগীত জগতে বাংলার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেন। কাশীর সংগীত শিল্পীরা হার স্বীকার করলেও এই পরাজয়কে মন থেকে মেনে নিতে পারে নি। তাদের চক্রান্ত শুরু হয়। যদুকে রক্ষা করতে গিয়ে ঝিমনের মৃত্যু হয়। শেষ পর্যন্ত যদুনাথ কলকাতায় দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের (ব্রতীন) কাছে আশ্রয় পান।
সংগীতবহুল এই ছবিতে ২৬টি গান সংকলিত হয়েছিল এবং কন্ঠ ও যন্ত্র সংগীতে বহু খ্যাতনামা শিল্পী অংশ নিয়েছিলেন। ছবিটি বাংলা ভাষায় নির্মিত বছরের সেরা ছবি হিসাবে ভারতের রাষ্ট্রপতির ‘সার্টিফিকেট অফ মেরিট’ লাভ করে।
