মোহিনীমোহন চৌধুরী, জন্ম পূর্ববঙ্গের (বর্তমানে বাংলাদেশ) ফরিদপুর জেলার কোটালী পাড়ায় হলেও বড় হয়েছেন কলকাতায়। প্রবেশিকা পরীক্ষায় স্কলারশিপ পান। বি.এসসি পড়তে ভর্তি হন। আর্থিক অসুবিধার কারণে পড়া ছেড়ে জি.পি.ও.তে চাকরি নেন। পরে ১৯৫৭ সালে প্রাইভেটে বি.এ. পাস করেন।

মোহিনীমোহন চৌধুরী
অল্প বয়স থেকেই কবিতা লেখা শুরু। ১৯৪৩ সালে তাঁর লেখা গান রেকর্ড করা হয়। চলচ্চিত্রের জন্য প্রথম গান অভিনয় নয় (১৯৪৫) ছবিতে৷ কালী ফিল্মস প্রযোজিত এই ছবিটির পরিচালক ছিলেন শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়। এই ছবিতে মোহিনী চৌধুরীর পাশাপাশি কাজী নজরুল ইসলাম এবং শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের লেখা গানও ব্যবহৃত হয়েছিল।
পরবর্তী ছবিও শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় তৈরি মানে-না-মানা (১৯৪৫)। এই ছবিতে তিনি একক ভাবে গীতিকার হিসাবে কাজ করেন। ১৯৪৭ সালে শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ‘রায়চৌধুরী’ ছবিতে গান লেখার পাশাপাশি সহ-পরিচালক হিসাবেও কাজ করেন। ১৯৫৩ সালে গণনাট্য সংঘর সাথে যুক্ত হন।

১৯৫৪ সালে আর্থিক প্রয়োজনে মেঘনাদ সাহার প্রাইভেট সেক্রেটারির কাজ নিয়ে দিল্লি চলে যান। মেঘনাদ সাহা তখন ভারতের প্ল্যানিং কমিশনের দায়িত্বে ছিলেন। পরবর্তী কালে কলকাতায় ফিরে এসে বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিলের ম্যানেজিং ডাইরেক্টারের সচিব হিসাবেও কিছুদিন কাজ করেছেন।
১৯৫৩-৫৪ সালে এম চৌধুরী প্রচেষ্টা নামে একটি প্রযোজনা সংস্থা তৈরি করে সাধনা (১৯৫৬) নামে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেন। ছবিটি প্রযোজনার সাথে পরিচালনা, গল্প, গান ও চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্বও পালন করেছিলেন। ছবিটি বক্স অফিসে সাফল্য পায় নি।
১৯৮৭ সালে মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি প্রায় চল্লিশটি ছবির জন্য গান লেখার সাথে সাথে একাধিক ছবির জন্য গল্প, চিত্রনাট্য রচনা করেছেন এবং বেশ কয়েকটি ছবিতে সহ-পরিচালক হিসাবে কাজও করেছেন।
১৯৪৫ সালে শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত অভিনয় নয় ছবিতে তাঁর লেখা ‘দীনদুনিয়ার মালিক তুমি’ এবং মানে-না-মানা ছবিতে ‘জয় হবে জয় হবে হবে জয়’ গানগুলি জনপ্রিয় হয়েছিল, ছবি দুটির সংগীত পরিচালক ছিলেন যথাক্রমে গিরীন চক্রবর্তী এবং শৈলেশ দত্তগুপ্ত।
১৯৬৬ সালে অগ্রদূত পরিচালিত এবং হেমন্ত মুখার্জী সুরারোপিত নায়িকা সংবাদ ছবিতে ‘কি মিষ্টি দেখ মিষ্টি’ এবং ‘কেন এ হৃদয় চঞ্চল হল’ গান দুটির গীতিকার হিসাবে মোহিনী চৌধুরী অসাধারণ জনপ্রিয়তা লাভ করেন। ১৯৬৯ সালে সুশীল মজুমদার পরিচালিত এবং হেমন্ত মুখোপাধ্যায় সুরারোপিত শুকসারী ছবিতে তাঁর লেখা ‘সখী চন্দ্রবদনী সুন্দরী ধনী’ গানটিও জনপ্রিয়তা পায়।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৪৫ অভিনয় নয়, মানে-না-মানা
- ১৯৪৬ বন্দেমাতরম, প্রতিমা,
- ১৯৪৭ রায়চৌধুরী, রং বেরং, দুই বন্ধু:
- ১৯৪৮ শাঁখা সিঁদুর, ঘুমিয়ে আছে গ্রাম, বিশ বছর আগে, স্বর্ণসীতা, মাটি ও মানুষ
- ১৯৪৯ দেবী চৌধুরাণী, যার যেথা ঘর:
- ১৯৫০ সন্ধ্যাবেলার রূপকথা, জাগ্রত ভারত, একই গ্রামের ছেলে, সমর, সতী সীমন্তিনী:
- ১৯৫১ নিয়তি, পণ্ডিতমশাই,
- ১৯৫২ কুহেলিকা, আলাদিন ও আশ্চর্য প্রদীপ, সিরাজদ্দৌলা
- ১৯৫৩ ব্লাইন্ড লেন
- ১৯৫৪ সতীর দেহত্যাগ, বাংলার নারী, মরণের পরে
- ১৯৫৬ সাধনা,
- ১৯৫৭ শ্রীমতীর সংসার,
- ১৯৫৯ মৃতের মর্ত্যে আগমন,
- ১৯৬৬ নায়িকা সংবাদ,
- ১৯৬৯ – শুকসারী;
- ১৯৭৭ প্রাণের ঠাকুর রামকৃষ্ণ
- ১৯৮২ মা কল্যাণেশ্বরী।
