মেঘে ঢাকা তারা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

মেঘে ঢাকা তারা চলচ্চিত্র

মেঘে ঢাকা তারা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

মেঘে ঢাকা তারা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা — চিত্রকল্প।
  • কাহিনি — শক্তিপদ রাজগুরু।
  • চিত্রনাট্য, প্রযোজনা ও পরিচালনা- ঋত্বিককুমার ঘটক।
  • সংগীত— জ্যোতিরিন্জ মৈত্র।
  • গীতিকার – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
  • চিত্রগ্রহণ- দীনেন গুপ্ত।
  • শিল্প নির্দেশনা—রবি চট্টোপাধ্যায়।
  • শব্দগ্রহণ – মৃণাল গুহঠাকুরতা, সত্যেন চট্টোপাধ্যায়।
  • সম্পাদনা— রমেশ যোশী।
অভিনয় ——

সুপ্রিয়া চৌধুরী, অনিল চট্টোপাধ্যায়, জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়, বিজন ভট্টাচার্য, গীতা দে, গীতা ঘটক, দ্বিজু ভাওয়াল, নিরঞ্জন রায়, নারায়ণ ধর, কামিনী চক্রবর্তী, আরতি দাস, সতীন্দ্র ভট্টাচার্য, রণেন্দ্র চৌধুরী, শান্তি সেন, সুরেশ চট্টোপাধ্যায়, সনৎ দত্ত, দেবী নিয়োগী।

 

মেঘে ঢাকা তারা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

নেপথ্য কণ্ঠ –

এটি কানন, দেবব্রত বিশ্বাস, গীতা ঘটক, রণেন্দ্রনারায়ণ — চৌধুরী।

বাদ্য—

বাহাদুর হুসেন খান, লক্ষ্মীত্যাগ রাজন, মহাপুরুষ মিশ্র।

কাহিনি—

দেশভাগের ফলে অসংখ্য উদ্বাস্তু পরিবার এই দেশে তাদের জীবনযুদ্ধ শুরু করে। এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র নীতা (সুপ্রিয়া) এই রকমই একটি পরিবারের মেয়ে। বাড়িতে একমাত্র উপার্জনক্ষম নীতার পরিবারে আছে তার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বাবা (বিজন), মা (গীতা সে), বড়ভাই শঙ্কর (অনিল), ছোট ভাই মন্টু (হিন্দু), বোন গীতা (গীতা ঘটক)। জীবিকার প্রয়োজনে নীতাকে সারাদিন বাড়ির বাইরেই কাটাতে হয়।

 

মেঘে ঢাকা তারা চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

শুধু চাকরির রোজগারে ছয় জনের সংসার চলে না, ফলে তাকে আরও দুটো টিউশনি করতে হয়। যদিও পরিবারের সকলেই তার মুখাপেক্ষী তা সত্ত্বেও একমাত্র শঙ্কর ছাড়া কেউই তার মনের খবর রাখে না। শঙ্কর গান শেখে, তার ইচ্ছা নামকরা গায়ক হিসাবে জীবনে সফল হওয়া। এক সময় নীতার জীবনে আসে সনৎ (নিরঞ্জন)। সনতের উচ্চশিক্ষার খরচও নীতাই বহন করে।

মায়ের প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়ে গীতা সনৎকে নিজের দিকে আকর্ষণ করে এবং দুজনের বিয়ে হয়। কষ্ট হলেও নীতা বিষয়টি মেনে নিতে বাধা হয়। প্রতিবাদ করে শঙ্কর, পরিবারের মধ্যে নীতার সমব্যথী একমাত্র সেই। কিছুদিনের মধ্যে মন্টু চাকরি পেয়ে বাড়ি ছাড়ে, পরিবারের দায়িত্ব নিতে সে রাজি নয়। সনৎ ও গীতার সম্পর্ক এবং মায়ের সংকীর্ণ মনোভাবে নীতার মন আগেই ভেঙে গিয়েছিল, এখন তার শরীরও ভেঙে পড়ে।

ডাক্তার জানায় তার টিবি হয়েছে। নীতার বর্তমান আশ্রয় বাড়ির বাইরের ঘরে, যাতে বাড়ির আর কেউ তার থেকে সংক্রমিত না হয়। এই সময় শঙ্কর বাড়ি ফিরে আসে, সে বর্তমানে খ্যাতনামা গায়ক। শঙ্কর নীতাকে একটি স্যানেটোরিয়ামে ভর্তি করে। নীতা জীবনে ফিরে আসতে চায়, সে বাঁচতে চায়, তার বেঁচে থাকার আর্তি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। সংসারে এমন কিছু চরিত্র আছে যারা সংসারের জন্য শুধু দিয়েই যায়, পায় না কিছুই, নীতাও তেমনি একটি চরিত্র।

ঋত্বিক তাঁর সমস্ত আবেগ, তাঁর ভালোবাসা দিয়ে নীতার চরিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন। এই ছবির সংগীত এবং শব্দের ব্যবহার বাংলা ছবিতে দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। নীতা ও শঙ্কর বাদে এই ছবির চরিত্রগুলির মানসিক অধঃপতন দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অধঃপতনের সাথে সম্পর্কযুক্ত, দেশবিভাগ কিছু মানুষের মধ্যে এই অধঃপতনকে ত্বরান্বিত করে মাত্র।

 

প্রকাশনা—

রজত রায় সম্পাদিত ঋত্বিক ও তাঁর ছবি গ্রন্থের প্রথম খণ্ডে এই ছবির উপর লেখা বিষ্ণু দে এবং সোমেশ্বর ভৌমিকের দুটি পূর্ব প্রকাশিত প্রবন্ধ সংকলিত হয়েছে। এই ছবির চিত্রনাট্য ১৯৯৯ সালে ঋত্বিক মেমোরিয়াল ট্রাস্ট প্রকাশ করে।

Leave a Comment