মিঠুন চক্রবর্তী, জন্ম কলকাতায়। হায়ার সেকেন্ডারি পাস করে কলেজে ভর্তি হলেও রাজনৈতিক কারণে শিক্ষা সমাপ্ত না করেই বোম্বে চলে যান। পুনায় ফিল্ম এ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে অভিনয় শিক্ষার জন্য ভর্তি হন। প্রথম চলচ্চিত্রাভিনয় মৃণাল সেন পরিচালিত হিন্দী ছবি মৃগয়া (১৯৭৬)। প্রথম ছবিতেই বছরের সেরা অভিনেতার জাতীয় সম্মান লাভ করেন। হিন্দী সিনেমায় সফল চলচ্চিত্র নায়ক মিঠুনের প্রথম বাংলা ছবি অরবিন্দ মুখোপাধ্যায় পরিচালিত নদী থেকে সাগরে (১৯৭৮)।

মিঠুন চক্রবর্তী । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা
এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০টি বাংলা ছবিতে কাজ করেছেন উত্তমকুমার, শক্তি সামন্ত, মঙ্গল চক্রবর্তী, অঞ্জন চৌধুরী, মিলন ভৌমিক, ঋতুপর্ণ ঘোষ, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত, স্বপন সাহা, হরনাথ চক্রবর্তী সহ বহু পরিচালকের সাথে।

অভিনীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র শিবনাথ (তাহাদের কথা, ১৯৯৩), রোহিত (তিতলি, ২০০১) রানা ভট্টাচার্য (বাঙালীবাবু, ২০০২), অরুণোদয় বক্সী (বারুদ, ২০০৪), ফাটা কেষ্ট (এম.এল.এ ফাটাকেস্ট, ২০০৬), অশ্বিনী (কালপুরুষ, ২০০৮) ইত্যাদি।
বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত পরিচালিত তাহাদের কথা ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে দ্বিতীয় বার সেরা অভিনেতার জাতীয় সম্মান লাভ করেন।

স্বর্ণতৃষ্ণা (১৯৯০) ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি নেপথ্য সংগীত পরিবেশন করেন। এছাড়াও ২০০৮ সালে নির্মিত সত্যমের জয়তে ছবিটি তাঁর কাহিনি অবলম্বনে তৈরি হয়েছিল। চলচ্চিত্রাভিনয়ের সাথে সাথে দূরদর্শনে বিভিন্ন রিয়ালিটি শোতে এবং নৃত্য অনুষ্ঠানগুলিতে বিচারক হিসাবেও অবতীর্ণ হন।
নিয়মিত ভাবে নিজের আয়ের একটি নির্দিষ্ট অংশ বিভিন্ন সমাজসেবা মূলক কাজে দান করেন। বর্তমানে তিনি রাজ্য সভার সাংসদ।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৭৮ নদী থেকে সাগরে;
- ১৯৮০ বেনারসী,
- ১৯৮১ পাহাড়ী ফুল, কলম্বিনী কঙ্কাবতী, উপলব্ধি,
- ১৯৮২ ত্রয়ী,
- ১৯৮৪ তিনমূর্তি,
- ১৯৮৫ অন্যায় অবিচার,
- ১৯৯০ অন্ধ বিচার, স্বর্ণতৃষ্ণা;
- ১৯৯৩ দালাল, তাহাদের কথা;
- ১৯৯৫ ভাগ্যদেবতা:
- ২০০০ চাকা,
- ২০০১ তিতলি,
- ২০০২ বাঙালীবাবু, ফেরারী ফৌজ,
- ২০০৩ সন্ত্রাস, শুরু, রাস্তা,
- ২০০৪ বারুদ, দেবদূত, কুলী, রাজাবাবু, স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা;
- ২০০৫ চিতা:
- ২০০৬ এম. এল. এ. ফাটাকেষ্ট, হাঙ্গামা
- ২০০৭ দাদা, তুলকালাম, মহাগুরু, টাইগার:
- ২০০৮ কালপুরুষ, সত্যমেব জয়তে,
- ২০১০ রহমত আলী, হাঁদা ভোঁদা, শুকনো লঙ্কা।
