মাধবী মুখোপাধ্যায়, জন্ম কলকাতায়। ছোটবেলাতেই পিতার বাড়ি ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণে আর্থিক বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন এবং প্রথাগত শিক্ষায় ছেদ ঘটে। মাত্র পাঁচ বছর বয়স থেকেই মিনার্ভা সহ অন্যান্য মঞ্চে শিশু শিল্পী হিসাবে কাজ করতে বাধ্য হয়েছেন। মঞ্চে কাজের সুবাদে শিশির ভাদুড়ী, অহীন্দ্র চৌধুরী ছবি বিশ্বাস নির্মলেন্দু লাহিড়ী নরেশ মিত্র, প্রভা দেবী, মহেন্দ্র গুপ্ত প্রভৃতির সান্নিধ্যে আসেন এবং অভিনয় শিক্ষার সুযোগ পান। তাঁর আসল নাম ছিল ‘মাধুরী’ বাইশে শ্রাবণ (১৯৬০) ছবির সময় তার নাম পরিবর্তন করে মাধবী রাখা হয়।

মাধবী মুখোপাধ্যায় । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
প্রথম চলচ্চিত্রে অভিনয় তপন সিংহ পরিচালিত টনসিল (১৯৫৬) ছবিতে। তৎকালীন প্রায় সব উল্লেখযোগ্য পরিচালকদের সাথে কাজ করেছেন। পাশাপাশি বাংলা বাণিজ্যিক ছবিগুলিতেও নায়িকা বা সমমর্যাদার পার্শ্ব চরিত্রগুলিতেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিল।

তপন সিংহ ছাড়াও সত্যজিৎ রায়, মৃণাল সেন, ঋত্বিক ঘটক, উৎপল দত্ত, পূর্ণেন্দু পত্রী, অজিত লাহিড়ী, তরুণ মজুমদার, পীযূষ বসু, অগ্রদূত অবদ মুখোপাধ্যায়, পীযূষ গঙ্গোপাধার সহ বহু পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন।
অভিনীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র মালতী (বাইশে শ্রাবণ, ১৯৬০) আরতি (মহানগর, (১৯৬৩); চাক (চারুলতা, ১৯৬৪): চামেলী (ঘুম ভাঙার গান, ১৯৬৫); সীতা (সুবর্ণরেখা, ১৯৬৫), হাসি (একই অঙ্গে এত রূপ, ১৯৬৫); কমলা (স্বপ্ন নিয়ে, ১৯৬৬), লক্ষ্মী (অদ্বিতীয়া (১৯৬৮); সুপ্রিয়া (দিবারাত্রির কাব্য, ১৯৭০) অনিরুদ্ধর স্ত্রী (গণদেবতা, ১৯৭৯); সুবর্ণলতা (সুবর্ণলতা, ১৯৮১) ইত্যাদি।

বিমল ভৌমিক এবং নারায়ণ চক্রবর্তী পরিচালিত দিবারাত্রির কাব্য (১৯৭০) ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে তিনি বছরের সেরা অভিনেত্রীর জাতীয় সম্মান লাভ করেন। চলচ্চিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি পেশাদার মঞ্চে এবং দূরদর্শন ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন। “আত্মজা” নামে একটি কাহিনিচিত্র পরিচালনাও করেছেন।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য স্বনামধন্য অভিনেতা নির্মলকুমারের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর লেখা গ্রন্থ আমি মাধবী। পরে মাধবীকানন গ্রন্থটি ২০১২ সালে চর্যাপদ (প্রকাশনা সংস্থা) থেকে প্রকাশিত হয়।
চলচ্চিত্রপঞ্জি—
- ১৯৫৬ টনসিল,
- ১৯৬০ বাইশে শ্রাবণ;
- ১৯৬১ আজ কাল পরশু
- ১৯৬৩ মহানগর,
- ১৯৬৪ স্বর্গ হতে বিদায়, গোধূলি বেলায়, চারুলতা, সিঁদুরে মেঘ, বিংশতি জননী,
- ১৯৬৫ থানা থেকে আসছি, ঘুম ভাঙার গান, কাপুরুষ ও মহাপুরুষ, দেবতার দীপ, সুবর্ণরেখা, একই অঙ্গে এত রূপ, জোড়াদীঘির চৌধুরী পরিবার:
- ১৯৬৬ শঙ্খবেলা, শপথ, স্বপ্ন নিয়ে;
- ১৯৬৭ অজানা শপথ;
- ১৯৬৮ ছোট্ট জিজ্ঞাসা, পরিশোধ, অদ্বিতীয়া, গড় নাসিমপুর:
- ১৯৬৯ দুরন্ত চড়াই, তীরভূমি, অগ্নিযুগের কাহিনী,
- ১৯৭০ দিবারাত্রির কাব্য, স্বর্ণশিখর প্রাঙ্গণে, সমান্তরাল,
- ১৯৭১ প্রথম বসন্ত, ছদ্মবেশী,
- ১৯৭২ বিরাজ বৌ, অৰ্চনা, ছায়াতীর, ছিন্নপত্র, কলকাতা ৭১,
- ১৯৭৩ বনপলাশির পদাবলী, আঁধার পেরিয়ে, স্ত্রীর পত্র, বিন্দুর ছেলে;
- ১৯৭৪ জীবন রহস্য, হারায়ে খুজি।
- ১৯৭৫ অগ্নীশ্বর, নতুন সূর্য
- ১৯৭৬ ছুটির ঘন্টা, যুগমানব কবীর:
- ১৯৭৭ রামের সুমতি, অমৃতের স্বাদ, ছোট্ট নায়ক:
- ১৯৭৮ নিষ্কৃতি, অবতার,
- ১৯৭৯ গণদেবতা:
- ১৯৮০ বাঞ্ছারামের বাগান;
- ১৯৮১ মাণিকচাঁদ, সুবর্ণলতা, সাহেব
- ১৯৮২ মালঞ্চ, দূরের নদী, বন্দিনী কমলা, প্রফুল্ল, মাটির স্বর্গ:
- ১৯৮৩, ছোট মা, সুপর্ণা, কাউকে বোলো না, সমাপ্তি, চোখ,
- ১৯৮৫ যোগবিয়োগ, অন্তরালে, ভালবাসা ভালবাসা,
- ১৯৮৬ জীবনসাথী, অনুরাগের ছোঁয়া, আর্তনাদ, দাদু-নাতি-হাতি, উত্তরলিপি, জীবন, মধুময়:
- ১৯৮৭ বন্দুকবাজ, রুদ্রবীণা, অর্পণ, প্রতিকার;
- ১৯৮৮ দীপশিখা, কলঙ্কিনী নায়িকা, হীরের শিকল, সুরের সাথী, মা এক মন্দির, অগুলি।
- ১৯৮৯ বান্ধবী, অগ্নিত্বা, কড়ি দিয়ে কিনলাম, অঘটন আজও ঘটে
- ১৯৯০ মানসী,
- ১৯৯১ শুভ কামনা, অন্তরের ভালবাসা, সাধারণ মেয়ে:
- ১৯৯২ অন্তর্ধান
- ১৯৯৩ মন মানে না, শ্রীমতী, ঈশ্বর পরমেশ্বর
- ১৯৯৪ অতিক্রম, বিদ্রোহিনী;
- ১৯৯৫ বৌমণি, রঙিন বসন্ত
- ১৯৯৭ চন্দ্রগ্রহণ
- ১৯৯৮ আত্মজা:
- ২০০০ উৎসব:
- ২০০২ তান্ত্রিক:
- ২০০৩ জেহাদ, সন্ত্রাস
- ২০০৬ তবু আসতে হবে ফিরে, যে জন থাকে মাঝখানে
- ২০০৯ স্বার্থ,
- ২০১০ জিরো থ্রি থ্রি. সুখের সংসার।
