মাইকেল মধুসূদন চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

মাইকেল মধুসূদন চলচ্চিত্র

 

মাইকেল মধুসূদন চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

মাইকেল মধুসূদন চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা – আই এন এ পিকচার্স।
  • প্রযোজক — মণি গুহ।
  • কাহিনি — বিমলচন্দ্র ঘোষ।
  • চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – মধু বসু।
  • চিত্রগ্রহণ – জি.কে মেহতা।
  • শিল্প নির্দেশনা— চারু রায়।
  • শব্দগ্রহণ — বাণী দত্ত।
  • সম্পাদনা – শ্যাম দাস, শিব ভট্টাচার্য।
  • গীতিকার — প্রণব রায়, গোবিন্দ দাস।
অভিনয় –

উৎপল দত্ত, দেবযানী, অহীন্দ্র চৌধুরী, মলিনা দেবী, মিডিয়াম স্টার্ক, অবিনাশ দাস, বাণীব্রত মুখোপাধ্যায়, প্রীতিকুমার মজুমদার, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপিন মুখোপাধ্যায়, অজিত বন্দ্যোপাধ্যায়, বলীন সোম, বিনয় গোস্বামী, শীলা নেহরু, অজন্তা কর।

 

মাইকেল মধুসূদন চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

কাহিনি—

মুনশি রাজনারায়ণ দত্ত (অহীন্দ্র) ছেলে মধুসূদন (উৎপল) খ্রিস্টান হবে জেনে মর্মাহত। মা জাহ্নবী দেবীর (মলিনা) কথা অমান্য করে মধু খ্রিস্ট ধর্ম গ্রহণ করলেও রাজনারায়ণ পুত্রকে ত্যাগ করতে পারেন নি। বিশপস কলেজে উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য মাসিক একশ টাকা খরচ বাবদ দিতেন। এই অল্প টাকায় খরচ চালানো নিয়ে পিতা-পুত্রের দ্বন্দ্বে পিতা অর্থ সাহায্য বন্ধ করেন।

মধুসূদন কলকাতা ছেড়ে মাদ্রাজে একটি স্কুলে চাকরি নিয়ে চলে যান, এবং সেখানে রেবেকা (মিরিয়ম) নামে একটি মেয়েকে বিয়ে করেন। কাজের ফাঁকে তিনি ইংরাজি ভাষায় লেখা কবিতা, প্রবন্ধ ইত্যাদি বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপতে দিতেন। তাঁর লেখা ইংরাজি কাব্য Capa tive Lady এই সময়কার রচনা।

 

মাইকেল মধুসূদন চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

কলকাতার পরিচিতদের কাছে বইটি পাঠালেও এখান থেকে কোনো উৎসাহ পান নি। বেথুন সাহেব মধুসুদনের বন্ধু গৌরদাস (বাণীব্রত) মারফত তাকে বাংলায় লেখার উপদেশ দেন। অভাবের সংসারে নিত্য অশান্তির ফলে রেবেকা বিবাহ বিচ্ছেদ করে চলে যায়। মধুসুদনের জীবনে আসেন বিদুষী হেনরিয়েটা (দেবযানী)।

মধুসুদন নিঃসম্বল অবস্থায় স্ত্রীকে নিয়ে কলকাতায় আসেন এবং কলকাতা পুলিস আদালতে চাকরি নেন। তাঁর লেখা রত্নাবলী নাটকের ইংরাজি অনুবাদ মঞ্চস্থ হয়। বাংলা ভাষায় তাঁর প্রথম নাটক শর্মিষ্ঠা। পরবর্তীকালে অমিত্রাক্ষর ছন্দে কাব্য রচনা করেন এবং কবি ও নাট্যকার হিসাবে মর্যাদা লাভ করেন।

আইনক্স বন্ধুদের সাহায্যে পিতার সম্পত্তি উদ্ধার করেন এবং ইংলন্ডে ব্যারিস্টারি পড়তে যান। বিদেশে অর্থাভাবে স্ত্রী ছেলে মেয়েদের নিয়ে অসুবিধায় পড়লে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের (অবিনাশ) সাহায্যে ব্যারিস্টারি পাস করে দেশে ফিরে আসেন। ব্যারিস্টারি করে প্রভূত অর্থ উপার্জন করলেও অমিতব্যয়ের কারণে অর্থকষ্টে পড়েন এবং ধার দেনায় জড়িয়ে যান।

 

শেষ পর্যন্ত অসুস্থ হয়ে মধুসূদন ও হেনরিয়েটা একই দিনে মারা যান। ছবিটি তৎকালীন সময়ে সমালোচকদের পাশাপাশি রসিক দর্শকদেরও প্রশংসা অর্জন করেছিল।

Leave a Comment