মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, জন্ম পূর্ববঙ্গের (অধুনা বাংলাদেশ) ঢাকায়। স্কুল শিক্ষা শুরু হয় ঢাকায়। এন্ট্রান্স পরীক্ষায় জেলায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। ঐ সময় থেকেই অনুশীলন সমিতির সাথে যোগাযোগ। কলকাতায় এসে প্রথমে ন্যাশনাল কলেজ, পরে প্রেসিডেন্সি এবং রিপন কলেজে পড়াশোনা করেন।
বিপ্লবী যতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের স্নেহধন্য মনোরঞ্জনকে কর্তৃপক্ষ প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে বহিষ্কার করলেও তিনি সিটি কলেজ থেকে পরীক্ষা দিয়ে সম্মানের সাথে স্নাতক হন এবং এম.এসসি. পড়তে ভর্তি হন। ভারতরক্ষা আইনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি ১৯২০ সালে মুক্তি পান। কিছুদিন বেঙ্গল কেমিক্যালে এবং পরে দেশবন্ধুর একান্ত সচিবের কাজ করেছেন।

মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা
ছোটবেলা থেকেই নাটক ও যাত্রায় আগ্রহ তাঁকে অভিনয় জগতে নিয়ে আসে। প্রথমে মঞ্চাভিনয় পরে চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন। শিশিরকুমার ভাদুড়ীর সীতা নাটকে মহর্ষি বাল্মীকির ভূমিকায় অভিনয়ের কারণে তিনি নাট্যজগতে মহর্তি নামে পরিচিত ছিলেন।
প্রথম চলচ্চিত্রাভিনয় ম্যাডান থিয়েটার্স প্রযোজিত এবং জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায় পরিচালিত বিষবৃক্ষ (নির্বাক, ১৯২২) ছবিতে।

সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে ৮৫টি ছবিতে অভিনয় করেছেন। জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও কাজ করেছেন প্রফুল্ল রায়, প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, দেবকী বসু, শিশিরকুমার ভাদুড়ী, প্রমথেশ বড়ুয়া, প্রিয়নাথ গঙ্গোপাধ্যায়, সুশীল মজুমদার, চারু রায়, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, নীরেন লাহিড়ী সহ বহু পরিচালকের সাথে।
মহর্ষি অভিনীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র তান্ত্রিক (কপালকুণ্ডলা, ১৯৩৩), দীনদাস (বাঙ্গালী, ১৯৩৬), বেণী (তরুবালা, ১৯৩৬), কথ (শকুন্তলা, ১৯৪১), শ্রীপতি (সহধর্মিণী, ১৯৪৩), গুরুপ্রসাদ (বিরিफবাবা, ১৯৪৪) প্রভৃতি।
চলচ্চিত্রাভিনয়ের পাশাপাশি পেশাদার মঞ্চে অভিনয়ের সাথে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের কাজের সাথেও যুক্ত হন এবং তার বাংলা শাখায় সভাপতি হিসাবেও কাজ করেছেন। পরে শম্ভু মিত্রের সাথে গণনাট্য সংঘ ছেড়ে বহুরূপী নাট্যগোষ্ঠী প্রতিষ্ঠা করেন।
চলচ্চিত্র পঞ্জি —
- ১৯২২ বিষবৃক্ষ:
- ১৯২৮ রজনী
- ১৯৩১ দেনাপাওনা
- ১৯৩২,সন্দিগ্ধা, কৃষ্ণকান্তের উইল, চিরকুমার সভা, চণ্ডীদাস,
- ১৯৩৩ কপালকুণ্ডলা, সীতা, মীরাবাই, রূপলেখা
- ১৯৩৫ দেবদাস, মন্ত্রশক্তি,
- ১৯৩৬ তরুবালা, কাল পরিণয়, ব্যথার দান, আবর্তন, পরপারে, বাঙ্গালী, সরলা, পণ্ডিতমশাই
- ১৯৩৭ রাঙা বৌ, মুক্তিস্নান, ইস্পস্টার, গ্রহের ফের
- ১৯৩৮ সৰ্ব্বজনীন বিবাহোৎসব, অভিজ্ঞান, দেবী ফুল্লরা, গোরা, চোখের বালি,
- ১৯৩৯ জনকনন্দিনী, পথিক, সাপুড়ে, দেবযানী, বামনাবতার,
- ১৯৪০ তটিনীর বিচার,
- ১৯৪১ কর্ণার্জুন, শকুন্তলা:
- ১৯৪২ ভীষ্ম, বন্দী:
- ১৯৪৩ জজসাহেবের নাতনী
- ১৯৪৪বিরিঞ্চিবাবা, শেষরক্ষা,
- ১৯৪৫ কতদূর,
- ১৯৪৬ বন্দেমাতরম, রায়চৌধুরী,
- ১৯৪৭ চোরাবালি, রামপ্রসাদ, অভিযোগ,
- ১৯৪৮ বিশ বছর আগে, প্রতিবাদ, বিচারক, অঞ্জনগড়, মায়ের ডাক,
- ১৯৪৯ নিশির ডাক, স্বামীজী, সিংহদ্বার, কর্মফল, যার যেথা ঘর, সাক্ষীগোপাল,
- ১৯৫০ মানদণ্ড, আবর্ত, তথাপি, সন্ধ্যাবেলার রূপকথা, জাগ্রত ভারত, একই গ্রামের ছেলে, পথহারার কাহিনী, সুধার প্রেম, দ্বৈরথ
- ১৯৫১ দুর্গেশনন্দিনী, কালসাপ, পলাতকা, স্পর্শমণি, আনন্দমঠ, দত্তা,
- ১৯৫২ ভিন দেশের মেয়ে, মেঘমুক্তি, নিরক্ষর, সহসা, রাণী ভবানী, নতুন পাঠশালা, বিন্দুর ছেলে,
- ১৯৫৩ পথনির্দেশ মায়াকানন, পথিক, ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য:
- ১৯৫৪ ময়লা কাগজ, সতী।
