মধুসুদন শীল। মধু শীল নামে স্টুডিও পাড়ায় পরিচিত। ১৯০২ সালে কলকাতায় জন্ম। স্কুল শিক্ষা হিন্দু স্কুলে, ১৯১৯ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে পদার্থ বিদ্যায় সাম্মানিক সহ স্নাতক এবং পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্মান লাভ করে গবেষণা শুরু করেন। পিতার আকস্মিক মৃত্যুতে গবেষণায় ছেদ ঘটে।

মধু শীল
১৯৩১ সালে পিকাডেলি সিনেমায় (তৎকালীন নাম হাওড়া নাট্যপীঠ) সাউন্ড প্রোজেক্টার মেশিন স্থাপন করেন। উল্লেখ্য তিনিই এই কাজে প্রথম ভারতীয়। এর আগে এই কাজ করতেন ইউরোপ বা আমেরিকার সাউন্ড ইঞ্জিনিয়াররা। কিছুদিন হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানিতে পরিচালক হিসাবে কাজ করার পর কালী ফিল্মস (পূর্ববর্তী নাম ইন্ডিয়ান ফিল্ম ইন্ডাষ্ট্রীজ) স্টুডিওতে যোগ দেন।

স্বাধীন শব্দযন্ত্রী হিসাবে প্রথম কাজ তিনকড়ি চক্রবর্তী পরিচালিত বিশ্বমঙ্গল (১৯৩৩)। প্লে-ব্যাক পদ্ধতিতে প্রথম কাজ সতু সেন পরিচালিত পণ্ডিতমশাই (১৯৩৬)। ছবিটি প্রযোজনা করেন পপুলার পিকচার্স। নিজস্ব পরিকল্পনায় এবং উদ্ভাবিত যন্ত্রে রি রেকর্ডিং-এর কাজ করেন। মুক্তিস্নান (১৯৩৭) ছবিতে। কালী ফিল্মস প্রযোজিত এই ছবি পরিচালনা করেছিলেন সুশীল মজুমদার।
১৯৩৮ সালে তিনি ফিল্ম কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়ায় যোগ দেন, পরবর্তী কালে ইষ্ট ইন্ডিয়া ফিল্ম কোম্পানি পুনর্গঠিত হলে সেখানেও কিছুদিন কাজ করেন। ডাবিং-এর কাজে ব্যবহারের উপযোগী যন্ত্র (স্ক্রিপটোগ্রাফ) আবিষ্কার তাঁর একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। বাংলা বিদ্যাসাগর (১৯৫০) ছবিটি স্ব-আবিষ্কৃত মেশিনে বাংলা থেকে হিন্দীতে ভাষান্তরিত করেন।
১৯৫২ সালে মধু শীল ব্রিটিশ ইনস্টিটিউট অফ রেডিও ইঞ্জিনিয়ার্সের ফেলো নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে তাঁর জীবনাবসান ঘটে।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৩৩ বিশ্বমঙ্গল
- ১৯৩৪ তুলসীদাস, তরুণী, মণিকাঞ্চন;
- ১৯৩৫ প্রফুল্ল, মন্ত্রশক্তি, পাতালপুরী:
- ১৯৩৬ কাল পরিণয়, পণ্ডিতমশাই, দ্বীপান্তর, অন্নপূর্ণার মন্দির,
- ১৯৩৭ হারানিধি, মুক্তিমান, ধূমকেতু, রাজগী,
- ১৯৩৮ দেবী ফুল্লরা, চোখের বালি, সৰ্ব্বজনীন বিবাহোৎসব
- ১৯৩৯ রিফা,
- ১৯৪০ অমরগীতি, তটিনীর বিচার,
- ১৯৪১ প্রতিশোধ, কবি জয়দেব,
- ১৯৪৩ পাপের পথে,
- ১৯৫০ দুধারা, সতী সীমন্তিনী:
- ১৯৫১ রত্নদ্বীপ,
- ১৯৫২ শুভদা, ভুলের শেষে, দর্পচূর্ণ, বিশ্বামিত্র, বিন্দুর ছেলে,
- ১৯৫৩ ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য, কাজরী, সাত নম্বর কয়েদী:
- ১৯৫৪ অন্নপূর্ণার মন্দির,
- ১৯৬০ ইন্দ্ৰধনু, বিভা
