ভূপেন হাজারিকা

ভূপেন হাজারিকা, জন্ম আসামে।ছোটবেলায় মায়ের অনুপ্রেরণায় গান শেখা শুরু করেন। মাত্র দশ বছর বয়সে তেজপুরে একটি সংগীত অনুষ্ঠানে জ্যোতিপ্ৰসাদ আগরওয়াল এবং বিষ্ণুপ্রসাদ রাভার নজরে পড়েন এবং তাঁদের উদ্যোগে কলকাতায় অরোরা স্টুডিওতে তাঁর প্রথম গান রেকর্ড করা হয়।

 

ভূপেন হাজারিকা । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

ভূপেন হাজারিকা 

 

শিক্ষা জীবনে প্রথমে গৌহাটি পরে ধুবড়ী হয়ে তেজপুর হাইস্কুল থেকে ১৯৪০ সালে ম্যাট্রিক পাস করেন। কটন কলেজ থেকে ১৯৪২ সালে ইন্টারমিডিয়েট এবং ১৯৪৪ সালে বি.এ. পাস করে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে এম.এ. পড়তে ভর্তি হন। ১৯৪৬ সালে এম.এ. পাস করে কিছুদিন গৌহাটির অল ইন্ডিয়া রেডিওতে চাকরি করেন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্কলারশিপ পেয়ে পিএইচ.ডি করতে যান এবং ১৯৫২ সালে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। নিউ ইয়র্কে তাঁর সাথে পরিচয় হয় পল রবসনের এবং তিনি রবসনের দ্বারা অনুপ্রাণিত হন।

চলচ্চিত্রের সাথে যোগাযোগ তৈরি হয় আসামের স্বনামধন্য চলচ্চিত্রকার জ্যোতিপ্রসাদ আগরওয়ালের মাধ্যমে। জ্যোতিপ্রসাদ পরিচালিত ইন্দ্ৰমালতী (১৯৩৯) ছবিতে ভূপেন হাজারিকা মাত্র বারো বছর বয়সে সংগীত পরিবেশন করেন। এবং তেরো বছর বয়সে ভূপেন গীতিকার হিসাবে আত্মপ্রকাশ করেন।

 

ভূপেন হাজারিকা । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

পঞ্চাশের দশকে আমেরিকা থেকে ফেরার পর, হাজারিকা ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের সাথে যুক্ত হন এবং ১৯৫৫তে গৌহাটিতে অনুষ্ঠিত গণনাট্য সংঘের ৩য় আসাম রাজ্যের সম্মেলনে অভ্যর্থনা সমিতির সম্পাদক হিসাবে কাজ করেন।

বাংলা চলচ্চিত্রে তাঁর প্রথম কাজ রতন চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত অসমাপ্ত (১৯৫৬) ছবিতে। এই ছবিতে তিনি অনুপম ঘটক এবং অনিল বাগচীর সাথে যৌথ ভাবে সংগীত পরিচালক এবং নেপথ্য গায়ক হিসাবে কাজ করেন।

মোট তেরোটি বাংলা ছবিতে সংগীত পরিচালনার পাশাপাশি সতেরোটি ছবিতে নেপথ্য সংগীত শিল্পী হিসাবে কাজ করেছেন। যে সব উল্লেখযোগ্য পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন তারা হলেন অসিত সেন, যাত্রিক, ইন্দর সেন, অজিত লাহিড়ী, পার্থপ্রতিম চৌধুরী প্রভৃতি।

 

ভূপেন হাজারিকা । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

নিজের সংগীত পরিচালনার ছবিগুলি ছাড়াও নেপথ্য সংগীতে কাজ করেন অপরেশ লাহিড়ী, নচিকেতা ঘোষ, অরুন্ধতী দেবী প্রভৃতি সংগীত পরিচালকের সাথে। ১৯৫৯ সালে পরিচালনা করেন অলকেশ বড়ুয়ার কাহিনি ও চিত্রনাট্য অবলম্বনে মাহুত বন্ধুরে। অরুন্ধতী দেবী পরিচালিত দীপার প্রেম (১৯৮৪) ছবিতে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন।

ইন্দর সেন পরিচালিত চামেলী মেমসাহেব (১৯৭৯) ছবির সংগীত পরিচালনার জন্য শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালকের জাতীয় পুরস্কার লাভ করেন। দেশে এবং বিদেশে বহু পুরস্কারে ভূষিত ভূপেন হাজারিকা।

তিনি ১৯৭৭ সালে পদ্মশ্রী, ১৯৮৭ সালে সংগীত নাটক একাডেমির পুরস্কার, ১৯৯২ সালে দাদাসাহেব ফালকে পুরস্কার এবং ২০০১ সালে পদ্মভূষণ, ২০১২ সালে পদ্মবিভূষণ সম্মানে ভূষিত হন। কল্পনা লাজমী পরিচালিত রুপালী (হিন্দী, ১৯৯৩) ছবির জন্য জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ সংগীত পরিচালকের সম্মান লাভ করেন।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি —
  • ১৯৫৬ অসমাপ্ত,
  • ১৯৫৭ কড়ি ও কোমল, জীবনতৃষ্ণা:
  • ১৯৫৮ ও আমার দেশের মাটি, জোনাকির আলো
  • ১৯৫৯ মাহুত বন্ধুরে,
  • ১৯৬০ দুই বেচারা
  • ১৯৭১ এখানে পিঞ্জর,
  • ১৯৭৬ দম্পতি
  • ১৯৭৯ চামেলী মেমসাহেব,
  • ১৯৮৪ দীপার প্রেম,
  • ১৯৯৪ গজমুক্তা;
  • ১৯৯৫ বৌমণি
  • ১৯৯৬ সোপান।

Leave a Comment