ভারতী দেবী ১৯২২ সালে জন্মগ্রহন করেন। পিতা হরেকৃষ্ণ দাস। বিদ্যালয় শিক্ষা শুরু হয় প্রথমে একটি মিশনারি স্কুল এবং পরবর্তী কালে ভারতী স্কুলে। মাত্র তেরো বছর বয়সে বিয়ে হয় কাশীতে এক ব্যায়াম শিক্ষকের সাথে, পরে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। রাইচাঁদ বড়ালের সুপারিশে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী হিসাবে নিউ থিয়েটার্সে যোগ দেন।

ভারতী দেবী । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ফণী মজুমদার পরিচালিত ডাক্তার (১৯৪০)। পরের বছর নিউ থিয়েটার্স প্রযোজিত হেমচন্দ্র চন্দ্র পরিচালিত সহযাত্রী ছবিতে অভিনয়ের সাথে প্লে ব্যাকও করেছিলেন। তাঁর সংগীত শিক্ষা শুরু হয় আমীর খানের কাছে, পরবর্তীকালে আশরাফ হুসেনের কাছেও গান শেখেন। অভিনয়ের প্রয়োজনে হিন্দী, উর্দু ও গুজরাটি ভাষা শিখেছিলেন। বাংলা ছাড়াও হিন্দী ছবিতে অভিনয় করেছেন।
নিউ থিয়েটার্স প্রযোজিত সুবোধ মিত্র পরিচালিত নার্স সিসি (১৯৪৭) ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র সুষমার ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দর্শকদের প্রশংসা লাভ করে। দেবকী বসু পরিচালিত সাগর সঙ্গমে (১৯৫৯) ছবিতে কেন্দ্রীয় চরিত্র দাক্ষায়ণীর ভূমিকায় অনবদ্য অভিনয় তাঁকে চলচ্চিত্র সমালোচকদের প্রশংসা এনে দেয়। ছবিটি সেরা ছবি হিসাবে ভারতের রাষ্ট্রপতির স্বর্ণপদক এবং বাংলা ভাষায় নির্মিত বছরের শ্রেষ্ঠ ছবির জন্য রাষ্ট্রপতির রৌপ্য পদক লাভ করে।

তপন সিংহ পরিচালিত নির্জন সৈকতে (১৯৬৩) ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে ১৯৬৬ সালে অনুষ্ঠিত তৃতীয় আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ছবির অন্যান্য অভিনেত্রীদের সাথে যৌথ ভাবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরস্কার পান। তপন সিংহ পরিচালিত গল্প হলেও সত্যি ছবিতেও তাঁর অভিনয় প্রশংসা পেয়েছিল।
সত্যজিৎ রায় পরিচালিত নায়ক (১৯৬৬) ছবিতে অরিন্দমের সহযাত্রী মনোরমার ভূমিকায় অভিনয় করেন৷ যাত্রিক পরিচালিত পলাতক (১৯৬৩), চাওয়া পাওয়া (১৯৫৯) ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসা অর্জন করে। অপর্ণা সেন পরিচালিত পরমা (১৯৮৫), তরুণ মজুমদার পরিচালিত আলো (২০০৩) এবং প্রভাত রায় পরিচালিত শুভদৃষ্টি (২০০৫) ছবিতে তিনি অভিনয় করেন।

সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে পঁচাত্তরটিরও বেশি ছবিতে তিনি নায়িকার ভূমিকার সাথে সাথে পার্শ্ব চরিত্রেও অভিনয় করেছেন। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি পেশাদার মঞ্চে এবং দুরদর্শনের ধারাবাহিকেও অভিনয় করেছেন। ছেলেবেলায় তাঁর নাম ছিল মনোরমা।
চলচ্চিত্রে অভিনয়ের শুরুতে অমর মল্লিকের সাথে তাঁর বিয়ে হয়। স্বামীর সাথে যৌথ ভাবে স্বামীজী (১৯৪৯) ছবি প্রযোজনা করেন। মহাশ্বেতা ছদ্মনামে তাঁর লেখা গল্প বাতায়ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। ১৯৮৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত কাজলাদিদি ছবিটি তাঁর গল্প অবলম্বনে তৈরি হয়।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৪০ ডাক্তার:
- ১৯৪১ প্রতিশ্রুতি;
- ১৯৪৩ কাশীনাথ;
- ১৯৪৭চন্দ্রশেখর, নতুন খবর, নার্স সিসি:
- ১৯৪৮ প্রতিবাদ:
- ১৯৫০ ইন্দ্রজাল:
- ১৯৫১ আনন্দমঠ, দুর্গেশনন্দিনী, সহযাত্রী:
- ১৯৫২ ভুলের শেষে।
- ১৯৫৪ মনের ময়ূর, মা অন্নপূর্ণা, নদ ও নদী, মরণের পরে, সতী:
- ১৯৫৫ অর্ধাঙ্গিনী:
- ১৯৫৬ ভোলামাষ্টার, চিরকুমার সভা, মহাকবি গিরিশচন্দ্র, রাজপথ, সূর্যমুখী:
- ১৯৫৭ কড়ি ও কোমল, তমসা, পথে হল দেরী;
- ১৯৫৮ সোনার কাঠি, মেঘমল্লার, যোগাযোগ, শ্রীশ্রীমা, শিকার, কংস,
- ১৯৫৯ চাওয়া পাওয়া, সাগর সঙ্গমে
- ১৯৬০ বাইশে শ্রাবণ, মীরাবাই,
- ১৯৬১ নেকলেস,
- ১৯৬২ অভিসারিকা:
- ১৯৬৩ নির্জন সৈকতে, পলাতক ত্রিধারা, বিনিময়, শ্রেয়সী,
- ১৯৬৪ কালস্রোত, অগ্নিবন্যা, কে তুমি:
- ১৯৬৫ পতি সংশোধনী সমিতি, গুলমোহর
- ১৯৬৬ সুশান্ত সা, নায়ক, গল্প হলেও সত্যি, জোড়াদীঘির চৌধুরী পরিবার;
- ১৯৬৭ দেবীতীর্থ কামরূপ কামাখ্যা,
- ১৯৬৮ পথে হল দেখা:
- ১৯৬৯ বিবাহ বিভ্রাট
- ১৯৭১ প্রথম বসন্ত
- ১৯৭২ আজকের নায়ক, আলো আমার আলো, বহুরূপী,
- ১৯৭৪ দেবী চৌধুরাণী
- ১৯৭৭ প্রাণের ঠাকুর রামকৃষ্ণ, বাবা তারকনাথ, শেষরক্ষা:
- ১৯৭ বালক শরৎচন্দ্র
- ১৯৭৯ কৃষ্ণ সুদামা
- ১৯৮০ গোপাল ভাঁড়, বাঁশরী, অভি:
- ১৯৮১ দুষ্টু মিষ্টি।
- ১৯৮২ মা ভবানী মা আমার, খেলার পুতুল,
- ১৯৮৩ কাজলাদিদি, সংসারের ইতিকথা
- ১৯৮৫ পরমা
- ১৯৯১ আনন্দ:
- ১৯৯৪ বাবা লোকনাথ;
- ২০০৩ আলো,
- ২০০৫ শুভদৃষ্টি।
