ব্রতীন্দ্রনাথ ঠাকুর: বাংলা চলচ্চিত্র বা বাংলা সিনেমা ১৮৯০ সালে ভারতের কলকাতায় বায়োস্কোপ নামে শুরু হয়েছিল।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ১৮৯৮ খ্রিষ্টাব্দের কলকাতায় বাঙালিদের মধ্যে প্রথম বায়োস্কোপ কোম্পানি গঠন করেন তৎকালীন ঢাকার বগজুরী গ্রামের হীরালাল সেন (১৮৬৬-১৯১৭)। তার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির নাম রয়্যাল বায়োস্কোপ কোম্পানি। তিনিই ছিলেন বাংলার প্রথম চলচ্চিত্র নির্মাতা।
তার তোলা খণ্ডচিত্র (নাটক থেকে) সীতারাম, আলীবাবা, দোললীলা, ভ্রমর, হরিরাজ বুদ্ধ ১৯০১ খ্রিষ্টাব্দের ৯ ফেব্রুয়ারি কলকাতার স্টার থিয়েটার ও ক্ল্যাসিক থিয়েটারে প্রদর্শিত হয়। তিনি প্রামাণ্য চিত্র, বিজ্ঞাপন চিত্র এবং সংবাদচিত্রও নির্মাণ করেন।
১৮৯৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর ফ্রান্সের প্যারিস শহরে প্রথম চলচ্চিত্র প্রদর্শন করেন লুমিয়ের ভ্রাতৃদ্বয়। এর কয়েক মাসের মধ্যেই ১৮৯৬ সালে ৭ জুলাই বোম্বে-র ওয়াটসন হোটেলে লুমিয়েরদের প্রতিনিধিদের প্রদর্শিত চলচ্চিত্রের মধ্য দিয়ে ভারতবর্ষে চলচ্চিত্র শিল্পের যাত্রা শুরু হয়।

ব্রতীন্দ্রনাথ ঠাকুর
জন্ম কলকাতায়। প্রথাগত শিক্ষা স্বপ্ন হলেও স্বশিক্ষিত ব্রতীন্দ্রনাথ আচার্য নন্দলাল বসুর কাছে শিল্পকলা বিষয়ে শিক্ষা লাভের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিছুদিন শিক্ষকতাও করেছেন। শিল্প নির্দেশক হিসাবে প্রথম কাজ জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সতীশ দাশগুপ্ত পরিচালিত কর্ণার্জুন (১৯৪১) ছবিতে।
পরবর্তী কালে নীতিন বসু পরিচালিত বিচার (১৯৪৩), নৌকাডুবি (১৯৪৭) এবং সমর (১৯৫০) ছবিতেও শিল্প নির্দেশনার কাজ করেন। ফণী মজুমদার, নীরেন লাহিড়ী, বংশী আশ প্রভৃতি পরিচালকের সাথেও কাজ করেছেন। বাংলা ছাড়াও হিন্দী, পাঞ্জাবি, ইংরাজি ছবিতেও শিল্প নির্দেশনার কাজ করেছিলেন।

বোম্বেতে তৈরি বহু হিন্দী ছবির শিল্প নির্দেশনার দায়িত্ব পালন করেছেন, বস্তুতপক্ষে তাঁর শিল্প নির্দেশনায় তৈরি বাংলা ছবির চাইতে হিন্দী ছবির সংখ্যা অনেক বেশি।
ফণী মজুমদার পরিচালিত এই তো সংসার (১৯৫০), নীরেন লাহিড়ীর যদুভট্ট (১৯৫৪) এবং অরূপ গুহঠাকুরতার পঞ্চশর (১৯৬৮) ছবিতে অভিনয়ও করেছেন।
চলচ্চিত্র পঞ্জি —
- ১৯৪১ কর্ণার্জুন:
- ১৯৪২ অপরাধ
- ১৯৪৩ বিচার,
- ১৯৪৭ নৌকাডুবি
- ১৯৫০ সমর,
- ১৯৫১ আনন্দমঠ, দত্তা
- ১৯৫৬ সাধক রামপ্রসাদ:
- ১৯৫৭ তমসা
- ১৯৬৬ রাজদ্রোহী।
