বিভূতি চক্রবর্তী: জন্ম পূর্ববঙ্গের (অধুনা বাংলাদেশ) ময়মনসিংহে। প্রথাগত শিক্ষা অসম্পূর্ণ রেখেই কলকাতায় চলে আসেন। ১৯৪৫ সাল থেকে সহকারী চিত্রগ্রাহক হিসাবে কাজ করা শুরু করেন। স্বাধীন চিত্রগ্রাহক হিসাবে প্রথম কাজ যুগান্তর চিত্র প্রতিষ্ঠান প্রযোজিত এবং মানু সেন পরিচালিত বৈকুণ্ঠের উইল (১৯৫০) ছবিতে। এই ছবিতে তিনি ও বিশু চক্রবর্তী যৌথভাবে চিত্রগ্রহণের কাজ করেন। একক দায়িত্বে প্রথম কাজ কুলহারা (১৯৫১)।

বিভূতি চক্রবর্তী
দীর্ঘ চলচ্চিত্র জীবনে প্রায় পঁয়তাল্লিশটি ছবিতে চিত্রগ্রহণের কাজ করেছেন। মানু সেন ছাড়াও হরি ভঞ্জ, কার্তিক চট্টোপাধ্যায়, সুধীর মুখোপাধ্যায়, সত্যেন বসু, অর্ধেন্দু চট্টোপাধ্যায় প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন।

ইন্দ্রপুরী স্টুডিও প্রযোজিত মায়াকানন (১৯৫৩) ছবিটি পরিচালনার কাজ প্রমথেশচন্দ্র বড়ুয়ার সাথে যুগ্ম ভাবে পালন করেন। বস্তুতপক্ষে নিজের কাহিনি ও চিত্রনাট্য অবলম্বনে প্রমথেশ ছবির কাজ শুরু করলেও আকস্মিক মৃত্যুর কারণে শেষ করতে পারেন নি এবং স্টুডিও কর্তৃপক্ষ বিভূতি চক্রবর্তীকে নিয়ে ছবির কাজ শেষ করেন। এর আগে বিভূতিবাবু বড়ুয়া ফিল্ম প্রোডাকসন্সএর জাগরণ (১৯৪৭) ছবিটি পরিচালনা করেন এবং পরবর্তী কালে শেষ চিহ্ন (১৯৬২) ছবিটি পরিচালনার পাশাপাশি চিত্রগ্রহণের দায়িত্বও পালন করেন।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৪৭ জাগরণ,
- ১৯৫০ বৈকুণ্ঠের উইল:
- ১৯৫১ কুলহারা:
- ১৯৫২ সিরাজদ্দৌলা, প্রার্থনা, মহিষাসুর বধ;
- ১৯৫৩ মায়াকানন, ধ্রুব
- ১৯৫৪ সতীর দেহত্যাগ, না, শিবশক্তি,
- ১৯৫৫ রিক্সাওয়ালা, বিধিলিপি, প্রশ্ন, ভগবান শ্রীশ্রীরামকৃষ্ণ,
- ১৯৫৭ হারজিৎ, ঘুম, পুনর্মিলন, চন্দ্রনাথ:
- ১৯৫৮ যমালয়ে জীবন্ত মানুষ, সোনার কাঠি, বৃন্দাবনলীলা:
- ১৯৫৯ : ভ্রান্তি, নৃত্যেরই তালে তালে;
- ১৯৬০ দুই বেচারা, শখের চোর,
- ১৯৬১ দুই ভাই
- ১৯৬২ সরি ম্যাডাম, শেষ চিহ্ন, দাদাঠাকুর
- ১৯৬৩ ত্রিধারা,
- ১৯৬৪ গোধূলি, কিনু গোয়ালার গলি,
- ১৯৬৬ পাড়ি, লবকুশ,
- ১৯৬৭ দেবীতীর্থ কামরূপ কামাখ্যা,
- ১৯৬৮ পরিশোধ, আগুনের ফুলকি,
- ১৯৬৯ বালক গদাধর:
- ১৯৭০ মহাকবি কৃত্তিবাস:
- ১৯৭২ জনতার আদালত
- ১৯৭৭ শ্রীশ্রী মালী:
- ১৯৮০ জয় মা মঙ্গলচণ্ডী:
- ১৯৮৭ ক্ষ্যাপা ঠাকুর:
- ১৯৯০ একাকী,
- ১৯৯২ ক্রোধ:
- ১৯৯৪ মহাভারতী।
