বসন্ত চৌধুরীর জন্ম মহারাষ্ট্রের নাগপুরে। প্রথাগত শিক্ষাও সেখানেই শুরু হয়। ১৯৪৯ সালে নাগপুরের মরিস কলেজ থেকে স্নাতক হন। ছোটবেলা থেকেই আবৃত্তি ও গদ্যপাঠে স্বচ্ছন্দ ছিলেন। চলচ্চিত্রে প্রথম কাজ নিউ থিয়েটার্স প্রযোজিত এবং কার্তিক চট্টোপাধ্যায় পরিচালিত মহাপ্রস্থানের পথে (১৯৫২)। এই ছবিতে তিনি অরুন্ধতী দেবীর বিপরীতে নায়কের (লেখক) ভূমিকায় অভিনয় করেন। এই ভূমিকায় তাঁর সংযত অভিনয় প্রশংসা অর্জন করেছিল।

বসন্ত চৌধুরী । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা
বসন্ত চৌধুরী অভিনীত কিছু উল্লেখযোগ্য চরিত্র নির্মল (নবীন যাত্রা, ১৯৫৩), নিমাই (ভগবান শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য, ১৯৫৩) অরবিন্দ রায় (অপরাধী, ১৯৫৫) মণীশ (শুভদৃষ্টি, ১৯৫৬); জয়ন্ত (বসন্তবাহার, ১৯৫৭) তাপস (দীপ জ্বেলে যাই, ১৯৫৯), প্রণব (অনুষ্টুপ ছন্দ, ১৯৬৪); আনন্দ (আলোর পিপাসা, ১৯৬৫) শ্রীকান্ত (অভয়া ও শ্রীকান্ত ১৯৬৫) রামমোহন (রাজা রামমোহন, ১৯৬৫) রমেন ( একই অঙ্গে এত রূপ, ১৯৬৫) হেরম্ব (দিবারাত্রির কাব্য, ১৯৭০), মোহান্ত (বৈদুর্য রহস্য, ১৯৮৫) ইত্যাদি। এই ছবিগুলিতে তার অভিনয় বহু ক্ষেত্রেই দর্শক সমাদরের পাশাপাশি চলচ্চিত্র সমালোচকদেরও প্রশংসা অর্জন করে।

সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে প্রায় সত্তরটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। উল্লেখযোগ্য যে সব পরিচালকের সাথে কাজ করেছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন দেবকী বসু, সুবোধ মিত্র, সুশীল মজুমদার, নীরেন লাহিড়ী, বিকাশ রায়, অসিত সেন, বিজয় দাশগুপ্ত, তপন সিংহ, গৌতম ঘোষ, ঋতুপর্ণ ঘোষ প্রভৃতি।
বসু, তরুণ মজুমদার, হরিসাধন চলচ্চিত্রাভিনয়ের পাশাপাশি মঞ্চাভিনয়, বেতার নাটক, যাত্রাভিনয়, গদ্যপাঠ, দূরদর্শন ধারাবাহিকেও অংশ নিয়েছেন। প্রথাগত শিক্ষার বাইরে গিয়ে ভারতের শিল্পকলা, ইতিহাসচর্চা সহ বহুবিধ বিষয়ে তাঁর পাণ্ডিত্য ছিল। অভিজাত এই শিল্পীর মর্যাদাবোধও ছিল অসাধারণ।

তাঁর স্বসম্পাদিত রবীন্দ্রনাথের ‘নষ্টনীড়’ উপন্যাস পাঠ সাধারণ শ্রোতাদের পাশাপাশি রবীন্দ্র বিশেষজ্ঞদেরও মুগ্ধ করেছিল। তাঁর ‘গণেশ মূর্তি’ ‘শাল’ এবং প্রাচীন মুদ্রার সংগ্রহ বহু মানুষকেই। মুগ্ধ করেছে। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর গণেশ মূর্তিগুলি ভারতের জাতীয় সংগ্রহশালায় দান করে যান। অভিনয় এবং পড়াশোনার তিনি বিভিন্ন সামাজিক কাজেও অংশ নিয়েছেন। কলকাতার শেরিফের দায়িত্বের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন নন্দন, পশ্চিমবঙ্গ চলচ্চিত্র কেন্দ্রের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৫২ মহাপ্রস্থানের পথে:
- ১৯৫৩ : নবীন যাত্রা, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ- চৈতন্য;
- ১৯৫৪ নদ ও নদী, বকুল, যদুভট্ট,
- ১৯৫৫ অপরাধী, পথের শেষে, ভালবাসা, দুজনায়, দেবী মালিনী;
- ১৯৫৬ শুভ রাত্রি, শঙ্করনারায়ণ ব্যাঙ্ক, ছায়াসঙ্গিনী, গোবিন্দদাস, রাজপথ, শেষ পরিচয়, মধুমালতী, আঁধারে আলো:
- ১৯৫৭ বসন্তবাহার, হারজিৎ, খেলা ভাঙার খেলা:
- ১৯৫৮ যোগাযোগ:
- ১৯৫৯ দীপ জ্বেলে যাই, শশীবাবুর সংসার:
- ১৯৬০ ক্ষুধা,
- ১৯৬২ সঞ্চারিণী, অগ্নিশিখা, বধু, নব দিগন্ত,
- ১৯৬৩ শ্রেয়সী;
- ১৯৬৪ কষ্টিপাথর, অনুষ্টুপ ছন্দ;
- ১৯৬৫ আলোর পিপাসা, রাজা রামমোহন, অভয়া ও শ্রীকান্ত, একই অঙ্গে এত রূপ শঙ্খবেলা, সুশান্ত সা, উত্তরপুরুষ:
- ১৯৭০ দিবারাত্রির কাব্য, মেঘ কালো
- ১৯৭১ প্রথম প্রতিশ্রুতি, সংসার
- ১৯৭৪ দেবী চৌধুরাণী, যদি জানতেম, প্রান্তরেখা, সঙ্গিনী:
- ১৯৭৫ নিশিমৃগয়া,
- ১৯৭৬ শঙ্খবিষ:
- ১৯৭৯ জীবন যে রকম, পরিচয়:
- ১৯৮০ ভাগ্যচক্র
- ১৯৮২ ইন্দিরা, দীপার প্রেম:
- ১৯৮৫ বৈদুর্য্য রহস্য,
- ১৯৮৮ অন্তরঙ্গ, শঙ্খচূড়,
- ১৯৮৯ অন্তর্জলী যাত্রা:
- ১৯৯০ ঋণ
- ১৯৯২ সত্যিমিথ্যা, আপন ঘর
- ১৯৯৩ কাচের পৃথিবী:
- ১৯৯৪ তবু মনে রেখো।
