আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড ।
ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড

ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড
চলচ্চিত্রের কাহিনী সংক্ষেপ :
স্কটিশ নাট্যকার জেএম বেরির জীবনীনির্ভর চলচ্চিত্র।
দেশ : ব্রিটেন-আমেরিকান যৌথ নির্মাণ
পরিচারক : মার্ক ফরস্টার
লেখক : অ্যালেন ডেভিড ম্যাগি
(নাটক : দ্য ম্যান উ ওয়াজ পিটার প্যান।)
রিলিজ ডেট : ২৪ নভেম্বর ২০০৪
মুখ্য চরিত্র : জনি ডেপ
কেট উইন্সলেট
ফ্রিদ্দিথইমোর
ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড
কত বিনিদ্র রজনী বইয়ের পাতার পর পাতায় চোখ রেখে মনোজগতে নানা ঘটনা পাত্র-পাত্রীকে স্পষ্টভাবে দাঁড় করিয়ে একজন নাট্যকার তার মনের মাধুরী দিয়ে নাটক সৃজন করেন। সেই লেখা নাটকটি বই হয়ে পাঠকের হাতে পৌঁছালে কিংবা মঞ্চায়নের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে উপস্থিত হলে পাঠক- দর্শক তখন নাটকের সুবাদে তাকে নাট্যকার হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
কিন্তু নাটক যিনি লিখলেন তাকে সবাই নাট্যকার বলে জানলেও নাটকটি তিনি কিভাবে লিখলেন, কত ত্যাগ যন্ত্রণা অধ্যবসায় নাটক লেখার থরেথনে সেটা সব সময়ে পাঠক-দর্শকের জানার সুযোগ নাও হতে পারে। নাটকটি নাটক হিসেবে ব্যর্থ কিংবা সফল যেটাই হোক না কেন একটা নাটকের মূল বন্ধকে হতে হবে যে জোরালো সেটা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন আন্তর্জাতিক নাট্যকার মনোজ মিত্র।
বড় ভাইয়ের হাত ধরে ছোট ভাই মেলায় গেছে এটা একটা ঘটনামাত্র। দ্বন্দ্ববহুল ঘটনা হবে তখনই যখন লেখা হবে বড় ভাই মেলায় যেয়ে দেখলেন সাথের ছোট ভাইটি আর সাথে নেই। সাথে থাক কিংবা হারিয়ে যাক বহু যতই মজবুত হোক নাটকের চরিত্ররা যে এত এত সংলাপ বলে সে সব সংলাপ নাট্যকার কোথায় পান। এক্ষেত্রেও নাট্যকার মনোজ মিত্রের রয়েছে ছোট প্রেসক্রাইব।
নাট্যকার যখন একটি চরিত্রকে আঁকবেন। তখন সেই চরিত্রকে যেন মনোজগতে বাস্তবিকভাবেই দেখেন। যদি নাট্যকার চরিত্রটিকে দেখতে পারেন তবে সংলাপ খুঁজে পেতে নাট্যকারকে দিনের পর দিন রাতের পর রাত হাতড়াতে হবে না। নাট্যকারের হাতের কলমে এসে পাতার পর পাতার সংলাপ ভর করবে। নাট্যকারের তখন একটাই মাত্র কাজ চরিত্রদের অনুসরণ করে লিখে চলা।
এসবের বাইরে অনেকেরই মনে হতে পারে সৃজনশীল মনের ধর্ম অঙ্কের গাণিতিক ফর্মুলা মেনে চলে না যে কিভাবে লিখতে হবে তারও একটা নিয়ম থাকবে। কথা সত্য কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যে অভিজ্ঞতা নাট্যকারের নিজের নেই, যেসব অচিন চরিত্র সম্পর্কে নাট্যকার নিজেই দ্বিধান্বিত, যা কিছু একটা নাটকীয় ঘটনা লেখার চেষ্টা করা মানেই যে সেটা নাটক না সে কথাই বার বার মনে হচ্ছিল স্কটল্যান্ডের খ্যাতনামা নাট্যকার স্যার জেমস ম্যাথিউ বেরির জীবনাশ্রয়ী চলচ্চিত্রকার মার্ক ফরস্টারের চলচ্চিত্র ‘ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড’ দেখতে দেখতে।
২০০৫ সালে সাতটি ক্যাটাগরিতে অস্কারের জন্যে মনোনীত হয়ে একটি ক্যারামরিতে অস্কার পুরস্কার লাভ করা চলচ্চিত্র “ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড’।
একজন নাট্যকারের নাটক কেন ব্যর্থ হয়, নাট্যকারের নাটক লেখার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা কত জরুরি, শিশুদের মনোজগৎ ঠিক কি রকম, শিশুরা ছোট হলেও তাদের কল্পনার জগৎ এবং শক্তিটা যে ছোট না, নাট্যকার ও নির্দেশকের মধ্যে সম্পর্কের বন্ধনটা ঠিক কি হওয়া উচিত, নাটক সফলের স্বার্থে দর্শকদের ভূমিকাটাই বা কি, অভিনেতা অভিনেত্রীদের অভিনয়ের ক্ষেত্রে ডিভোশন নাটক মঞ্চায়নকে কিভাবে সফল করে তোলে সেসব হাজার প্রশ্নের উত্তর নিয়েই চলচ্চিত্র ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড।
ল্যান্ড বা জমি কোথাও উর্বর কোথাও অনুর্বর, কোথাও কাঁদা কোথাও মেরা তবু যে জমির উপর সে দেশের রাজধানী সেই জমির দরই আলাদা। সিলেট, চট্টগ্রাম, ঢাকা, হবিগঞ্জ আরও অনেক জায়গায় নাটক মঞ্চায়ন হলেও সব নাট্যকার, নির্দেশক, অভিনেতা-অভিনেত্রী, কলাকুশলীদের আগ্রহ থাকে ঢাকার মহিলা সমিতি কিংবা শিল্পকলায় নাটক মঞ্চায়ন হওয়া ঠিক তেমনি স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড এবং ইংল্যান্ড নিয়ে যে গ্রেট ব্রিটেন সেই ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডনের মঞ্চে মঞ্চস্থ হচ্ছে স্কটল্যান্ডের নাট্যকার জে. এম. বেরির নাটক লিটল মেরীর প্রথম মঞ্চায়ন দিয়েই চলচ্চিত্র ‘ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড’-এর
শুরু হলেই যে শেষ পরিণতি ভালো হবে এমন কোনো কথা নেই। একজন মা যেমন সব থেকে ভালো জানেন তার পাঁচটি ছেলে মেয়ের মধ্যে কোনটি কি রকম ঠিক তেমনি নাট্যকার জে.এম. বেরিও ভালোভাবে জানেন নাটক হিসেবে লিটল মেরী ঠিক কি রকম। তথাপি পূর্বের নাটকগুলোর সফলতার কারণে আজ হলরুম কানায় কানায় পূর্ণ। কিন্তু নাটক লিখে অতৃপ্ত জে. এম. বেরি প্রদর্শনীর পূর্বে অস্থির।
নাটকটি যে ব্যার্থ হবে এটা যে জে. এম. বেরি বুঝে গেছেন সেটা দর্শকদের বোঝাতে পরিচালক মার্ক ফরস্টার ছোট্ট একটা দৃশ্যের অবতারণা করেছেন। মঞ্চে বেল বাজানোর রয়ের কাছে। নাট্যকার জে. এম. বেরি জানতে চাইছে তুমি নাটকের রিহার্সেল দেখে আনন্দ পেয়েছো কি না। ইংল্যান্ডের মানুষ স্বভাবতই ভদ্র। খারাপ লেগেছে এটা সে কিছুতেই বলবে না।
বা মুখ ফুটে কিছু না বললেও দর্শক আসনে দর্শক বলে হাই তুলতে তুলতে, ঘুমিয়ে পড়ার মধ্য দিয়ে। নাট্যকার সে সবই অবলোকন করে। কি হলে ভালো হতে পারত এরকম ক্ষেত্রে নাট্যকার জে. এম. বেবির মনে হয় মঞ্চের যে দৃশ্যে বৃষ্টি হচ্ছে যদি সেই বৃষ্টির আঁচ যদি দর্শকদের ভিজিয়ে দিতে পারতো তবেই দর্শক ঘটনার সাথে একীভূত হতে পারতো।
পরিচালক জে. এম. বেরি (জনি ডেপ) চোখ দিয়ে দর্শকদের উপর যে বৃষ্টির ইমেজ দর্শকদের উপহার দিয়েছেন তাতে তিনি যেন বোঝাতে চেয়েছেন হোক নাটক কিংবা চলচ্চিত্র, দর্শকের কাছ থেকে দূরে সরে যেয়ে যে কারো জন্য ভিজ্যুয়াল মাধ্যমে সাফল্য না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।
সম্ভাবনাময় নাটক নিটল মেরী হবে ভেবে যে দর্শক এসেছিল নাটক শেষে তারা সবই হতাশ। হতাশার কথা নাটক শেষে বাতাসে ভেসে বেড়াতে থাকে। মি. এবং মিসেস স্লো নাট্যকার জে.এম. বেরির নিয়মিত দর্শক নাট্যকারকে আঘাত করা তাদের উদ্দেশ্য না। তবু বিরক্তি চেপে বলার চেষ্টা করে, আশা করি মি. জে. এম. বেরির নাটকটি চমৎকার।
আপনি নিজে কি মনে করেন মি. বেরি? নাট্যকার জেমস বেরি কিছুক্ষণ নিরুত্তর। বিরক্তি চেপে নাট্যকারকে সহানুভূতি জানানোর জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে জে. এম. বেরি বলে, আমার মনে হয় এর থেকে ভালো নাটক আমি লিখতে পারবো।
কি পারবো আর কি না পারবো সে কথা ভেবে তো আর নাট্য সমালোচককে নাট্য প্রযোজনা সমালোচনা করা চলে না। ফলে পরের দিন পত্রিকায় নাটকের পর্যালোচনা করতে যেয়ে পর্যালোচনা করা হয় তার শিরোনাম জে.এম. বেরির নাটকীয় বিপর্যয়। বিপর্যয়ের মধ্যে নাট্যকার জে. এম বেরিকে আরো বিপর্যস্ত করে না তুলতে বাড়ির গৃহকর্মী ভদ্রমহিলা পত্রিকার নাটকের রিভিউ অংশ কেটে সরিয়ে রাখে।
প্রভাতে নাট্যকার জে. এম. বেরি তার পোষা কুকুর প্রথসকে এবং পত্রিকা নিয়ে বেরিয়ে পড়ে বাড়ির পাশের পার্কে। পার্কের চেয়ারে বসে নাট্যকার যখন পত্রিকাটি পড়তে যাবে তখন ঐ কাটা অংশের ভিতর দিয়ে চোখ যেয়ে পড়লো এক ভদ্রমহিলা এবং তার সন্তানদের উপর যারা তার কুকুর প্রথমের সাথে ছোটাছুটি খেলছে।
যেই উঠতে যাবে নাট্যকার অমনি চেয়ারের তল থেকে এক শিশুর কণ্ঠস্বর। শিশুটি। বলে, আমি কয়েদি, বন্দি কারাগারে। নাট্যকার বেরি অবাক হয়ে জানতে চায়, বন্দি কিন্তু কিভাবে। শিশুটি বলে, আমার নাম মাইকেল। আর ঐ দূরে আপনার কুকুরের সাথে খেলছে আমার বড় ভাই জর্জ। ঐ জর্জ আমাকে যেভাবে শাসন করে ভাতে বন্দি না হয়ে উপায় আছে। আমি যে কারাগারে বন্দি ঐ জর্জ সেই কারাগারেরর পাহারাদার। পাহারাদার বলতে বলতেই জর্জ
এসে হাজির। জর্জের বক্তব্য আপনি ওর কথা মোটেও বিশ্বাস করবেন না। আমি ওর বড় ভাই। ও চখল। আমি যদি ওকে চোখ দিয়ে ঘিরে না রাখি তাহলে ও যদি হারিয়ে যায়। বড় ভাই হিসেবে সেটাই তো আমার দায়িত্ব কি বলেন আপনি?
আপনাকে ওরা হয়তো বিরক্ত করছে, প্লিজ আপনি কিছু মনে নেবেন না; সে কথা এসে বলে ঐ বাচ্চাদের মা। মাইকেল তার মাকে বলে, দেখ না আমাদের কারণে তিনি কিছুতেই বিরক্ত হচ্ছেন না। বিরক্ত হলে তিনি এতক্ষণ থাকতেন না।
বাচ্চাদের যুক্তিপূর্ণ কথায় নাট্যকার এবং ভদ্রমহিলা না হেসে থাকতে পারলেন না। পরিচয় পর্বে বললেন, আমি ওদের মা মিসেস সিলভিয়া লিলিউইনিন ডেভিস (কেট উইন্সলেট)। আমি জে. এম. বেরি। এত বড় নাট্যকার জে. এম. বেবিকে সামনাসামনি পেয়ে লিলিউইনিন বিস্মিত।
মা লিলিউইনিন বিস্মিত হলেও তার সন্তান পিটার স্বভাবতই বিরক্ত নাট্যকারের কুকুর প্রথসকে দেখে। প্রথসকে নিয়ে এত ব্যস্ততার কি কারণ থাকতে পারে এটাই তার জিজ্ঞাসা।
উত্তরে নাট্যকার বলে, তুমি যাকে শুধু কুকুর ভাবছো সে আমার কাছে আরো কিছু বেশি। আমি যখন তাকে যা হতে বলি তখন সে সেটা হয়ে যায়। শিশু পিটার প্রতিবাদ করে বলে, সেটা অসম্ভব। একটা কুকুর শুধুই কুকুর এর বেশি কিছু না।
যদি সেটা হয় তবে আপনি কুকুরটিকে ভল্লুক বানিয়ে দেখান। উত্তরে জে. এম. বেরি বলেন, আমি কুকুরটিকে ভল্লুক বানাবো কিন্তু তোমাকে ভল্লুক দেখতে চাইতে হবে। পাথরে যে জমা আগুন আছে এটা দেখতে চাইতে হবে।
বলেই নাট্যকার জে. এম. বেরি কুকুরটাকে দুই পায়ে দাঁড় করিয়ে হাতের দিকের দুই পা দুহাতে ধরে পার্টিতে দুটি মানুষ যেভাবে ব্যালে ড্যান্স করে সেভাবে নাচতে থাকে। সাথে সাথে ওভার ল্যাপে দেখা যায় দর্শকভর্তি হল। মঞ্চে অভিনেতা ভল্লুককে জড়িয়ে ব্যালে ড্যান্স করছে। পার্কের মা সস্তানের সাথে সাথে দর্শকদের তুমুল করতালি। দেখার ভিন্নতর দৃষ্টি খুঁজে পাওয়ার আনন্দে তুমুল করতালি।
দেখার ভিন্নতা যতই থাকুক দাম্পত্য জীবনে স্বামীকে চোখে চোখে দেখে রাখতে কোনো স্ত্রী যে ভুল করে না এটা সব স্বামী মাত্রই ভালোভাবে জানে। যেটা সবার আগে জরুরিভিত্তিতে জানা দরকার একজন স্ত্রীর জন্য সেটা হলো, তার চোখের আড়ালে তার প্রিয় স্বামীটির মনের মধ্যে কোনো ললনা ঢুকে পড়লো নাকি পাছে।
রাতে খাবার টেবিলে স্ত্রী মেরীকে যতই বাচ্চাদের কথা বলছে জে এম বেরি সে সব না শুনে স্ত্রী মেরীর একটা কথা, যতদূর জানি ঐ বাচ্চাদের মা সিলভিয়া তো বিধবা। কিছুদিন হলো সে তার স্বামীকে হারিয়েছে। স্বামীতো আবার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন।
অবশ্য মরার আগে চার সন্তান রেখে গেছে কিন্তু বলার মতো কোনো আয় রেখে যাননি। অবশ্য মিসেস সিলভিয়ার মা আছেন কিন্তু তার সাহায্যে তারা বেঁচে আছে। আচ্ছা, জেমস তুমি কাল রাতের খাবারে তাদের নিমন্ত্রণ দাও। আমি মিসেস সিলভিয়ার মায়ের সাথে কথা বলবো কারণ কার কতটুকু ওজন সেটা তিনি ভালোই বোঝেন।
কি যে বোঝাতে চাইলো স্ত্রী মেরী সেটা জেমস বেরি ভালো বুঝালে বেরি চরিত্রে জনি ডেপ অভিনয়ের মধ্যে দিয়ে যা বোঝালো তাতে দর্শক বুঝলো, ডিম ফুটে হাসের বাচ্চার পুকুরপানে ছোটাটা যেমন স্বাভাবিক প্রবৃত্তি তেমনি মেয়ে দেখলে মেয়ের হিংসা হওয়াটাও একটা স্বাভাবিক প্রবৃত্তি।
স্বাভাবিক প্রবৃত্তি শিশুদের অভিনয় করা। পিটার, জ্যাক, জর্জ, মাইকেল চার ভাই আর নাট্যকার জে. এম. বেরি পাঁচজনকে মিলে বাড়ির আঙ্গিনায় আফ্রিকার এক জঙ্গলে দস্যুদের মোকাবিলা করছে এরকম একটা দৃশ্যের অভিনয় করে।
কাউকে কোনো অভিনয়ের প্রশিক্ষণ দেয়া লাগছে না, স্রেফ বেরি শিশুদের কল্পনাকে উসকে দিচ্ছেন আর তাতেই জীবন্ত অভিনয়। একটা বিষয় অবলম্বনে শিশুরা যা করে যাচ্ছে তাই ডালপালা বিস্তার করে এক একটা নিত্যনতুন চরিত্র হয়ে উঠছে নাট্যকার জে. এম. বেরির নতুন লেখা নাটকে।
নাট্যকার জে. এম. বেরি উড়াল দিলেও বাস্তবের মাটি থেকে এক পা সরছে না নাট্যকারের স্ত্রী মেরি। রাতের খাবার টেবিলে শিশু, শিশুদের মা- দাদীর সামনে মেরী বলে চলছে, আশা করি তোমরা স্যুট পোশাক পরতে পেরে যথেষ্ট খুশি।
অবশ্য এরকম দান-খয়রাত আমি মাঝে মধ্যেই করে থাকি। বিভিন্ন অনাথ আশ্রম, এতিমদের খাওয়া খরচা আমি নামে-বেনামে চালাই। বাড়িতে খেতে ডেকে খেতে বসিয়ে এভাবে কথা বলাটা শিশু, মিসেস সিলভিয়া এবং নাট্যকারের জন্য অপমান হলেও তালে তাল মিলায় সিলভিয়ার মা মিসেস ইমা মাউরিয়ার।
সেও বলে চলে, এ মুহূর্তে আমাকে দুটি বাড়ি চালাতে হয়। একটা মেয়ের বাড়ি অপরটি আমার বাড়ি। আমার বাড়িটা। অনেক বড় হলেও মিনিমাম কিছু ভদ্রতা জানা না থাকলে যাকে তাকে বাড়িতে তুলি না। খাবার টেবিলের পরিবেশটা বিষাক্ত হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে জে.এম বেরি নিজেই সক্রিয় হয়। আফ্রিকার দৃশ্য অভিনয় প্রসঙ্গ আসতেই শিশুরা, মিসেস সিলভিয়া এবং নাট্যকার হাস্যোজ্বল হয়ে উঠলেও থমকে যায় স্ত্রী মেরী এবং শিশুদের দাদা। উঁচু ঢিবিতে যেমন জল দাঁড়ায় না তেমনি অহংকারী মানুষদের কেউই পাত্তা দিতে চায় না।
লিটল মেরী নাটকটি যে লোকে পাত্তা দেয়নি এ কথা কেন বলনি প্রশ্ন করে নাট্যকার জে.এম. বেরি তার প্রযোজক চার্লিস ফ্রম্যানকে (ডাস্টিন হফম্যান)। চার্লিস ফ্রম্যানেরও পাল্টা প্রশ্ন. তুমিই বা কেন বললে না যে নাটকটি ভালো হয়নি।
অমীমাংসিত সমাধানে চার্লিস পুনরায় নতুন একটা নাটক চায় জে. এম. বেরির কাছে। বেরি বলে নতুন নাটক নেই। কিন্তু প্রযোজক চার্লিসের দৃঢ় বিশ্বস, জে. এম. বেরি তুমি চাইলেই তুমি লিখতে পারবে। কথা প্রসঙ্গে চার্লিস বলে পত্রিকায় তোমার নাটকের সমালোচনা যে লিখেছে, সে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে নিরপেক্ষভাবে লিখেছে।
তার নিরপেক্ষ সমালোচনা লেখাটাই অপরাধ হয়েছে ফলে তার চাকরি চলে গেছে। সহমর্মী নাট্যকার যখন চার্লিসের কাছে জানতে চাইলো, সত্যিকারের সমালোচনা করায় তার চাকরি গেল কেন? প্রতি উত্তরে প্রযোজক চার্লিস বলে, নাট্যকার জেমস তুমিতো নাটক লেখ। এই নাটকের বাইরেও অনেক নাটক ঘটে। সমালোচকের চাকরি চলে যাওয়াটাই আস্ত নাটক।

আস্ত নাটক তো দূরের কথা কোনো নাটকই লিখতে জানে না এ কথা নাট্যকার জো, এম বেরিকে বলে পিটার। প্রতি উত্তরে জে. এম. বেরি বলে, তুমি কখনো নাটক পড়োনি। কখনো কাগজ-কলম নিয়ে লিখতে বসোনি।
তাহলে কিভাবে বুঝলে তুমি নাটক লিখতে পার না। নাট্যকার জে. এম. বেরি একটা চামড়া দিয়ে মোড়া খাতা তুলে দেয় পিটারের হাতে। বলে, সমস্ত নাট্যকারের দুটি জিনিস থাকতে হয়। সুন্দর খাতা এবং খাতার উপর সুন্দর নামকরণ।
নামকরণের প্রশ্নে জে. এম. বেরি বলে, পিটার আমি নতুন যে নাটকটি লিখছি সেখানে আমি তোমার নাম রাখতে চাই। তুমি কি অনুমতি দেবে? প্রতি উত্তরে বিস্মিত পিটার বলে, আপনিই বলুন আমার কি বলা উচিত। বলা উচিত ইয়েস। ইয়েস।
ইয়েস-নো যাই হোক পিটারের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য বোঝাতে নাট্যকার জে. এম. বেরি চমৎকার কথা বলে মিসেস সিলভিয়াকে। বলে, আমার বয়স তখন মাত্র ছয় বছর। আমার বড় ভাই ডেভিডের বয়স একদিন পার হলেই চৌদ্দ বছর হবে।
অথচ একদিন বাকি থাকতেই বড় ভাই ডেভিড বরফে স্কেটিং করতে যেয়ে প্রথমে আহত হয় এবং পরে মাথায় রক্তক্ষরণে সে মারা যায়। বড় ভাই ডেভিডের মৃত্যুতে মা আমার বিছানাশায়ী হলেন। সন্তান হিসেবে আমার যা যা করণীয় আমি সবই করলাম কিন্তু মায়ের আমার কোনো পরিবর্তন হলো না।
তার সমস্ত বেদনার্ত মুখে শুধু ডেভিডের জন্য ব্যাকুলতা। তাই আমি একদিন বড় ভাই ডেভিডের পোশাক পরে, ডেভিডের হেয়ার স্টাইল করে, ডেভিডের আচরণ নিয়ে মায়ের সম্মুখে এসে দাঁড়ালাম। সেদিনই দেখলাম এই প্রথম মা আমার দিকে তাকালেন।
জিজ্ঞেস করলেন, আমি ডেভিড কিনা! বললাম হ্যা, আমি ডেভিড। শুধুই ডেভিড। সেদিন থেকে আমি ডেভিড। ডেভিডের তলে চাপাপড়া জেমসকে আমি নিজেই পাঠিয়ে দিলাম নেভারল্যান্ডে। শোকাতুর মিসেস সিলভিয়া যখন জানতে চাইলো সেই নেভারল্যান্ড কোথায়, উত্তরে জেমস বললো, একদিন আমি আপনাক সেখানে নিয়ে যাবো।
নেভারল্যান্ড যে একটা সমুদ্রের মাঝে দ্বীপ যেখানে রেড ইন্ডিয়ান শিশুরা থাকে, পরীরা থাকে, সেই দ্বীপে মাঝে মধ্যেই জলস্যুরা হানা দেয়, যে দস্যুদের নেতা ক্যাপ্টেন কুক, সেই দ্বীপে পিটার প্যান যে উড়তেও জানে, যে শিশুদের রক্ষা করে, সেখানে পিটার মায়ের চোখে দেখে উইন্ডিকে এরকম দ্বীপের দৃশ্য কল্পনা করে শিশুরা এবং জে. এম বেরি অভিনয় করে।
শিশুদের সাথে অভিনয়টা শুধুই অভিনয় নাকি স্বামীবিহীন এক বিধবার সান্নিধ্য পাওয়াটা জে. এম বেরির আরাধ্য এ ব্যাপারে সংশয় জে. এম. বেরির বন্ধু এবং স্ত্রীর। মিসেস সিলভিয়া যে শুধুই তার বন্ধু এ কথা বোঝাতে সক্ষম হয় জে. এম. বেরি। বন্ধুকে বলে, দেখ একটা জঙ্গল যখন পরিচর্যায় বাগান হয়ে ওঠে তখন কোথা থেকে বুনো ষাঁড় এসে সব তছনছ করে দেয়।
বুনো ষাঁড় হয়ে তার স্ত্রীর জীবনে আসে গিলবার্ট কেনন। মায়েরা যেমন বাচ্চাদের জন্য জুস কিনতে যেয়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ তারিখ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তেমনি একটি দেশের চলচ্চিত্রের ভালোমন্দের মান নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখে সেন্সর বোর্ড।
সেই সেন্সরের বিপক্ষে এই গিলবার্ট কেনন। জে. এম. বেরির ব্যস্ততার সুযোগে নন-সেন্সর গিলবার্ট কেনন এবং মেরীর মধ্যে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়ে গেলে জে. এম. বেরি কিছুতেই মেরীকে নিবৃত্ত করতে পারে না। মেরী একসময়ের অভিনেত্রী, তেজী, স্বাধীনচেতা।
মেরী বলে, সকালে বের হয়ে যাওয়া আর রাতে ঘরে খেতে ফেরা এছাড়া তুমি আমাকে কি দিয়েছো। আমি যখন তোমাকে বিয়ে করেছিলাম তখন ভেবেছিলাম বিখ্যাত মানুষদের মনে একটা আলাদা জগৎ থাকে। তোমার ডায়েরি পড়ে জেনেছি তোমারও সে জগৎ আছে নেভারল্যান্ড। আমি চেয়েছি তুমি আমাকে সঙ্গী করবে। কিন্তু তুমি করনি।
প্রতি উত্তরে জে. এম বেরি বলে, আমি অনেকবারই চেষ্টা করেছি কিন্তু যতবারই চেষ্টা করি দেখি হয় তুমি ফার্নিচার নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ো নচে ড্রেস তৈরি করো। প্রতি উত্তরে মেরী বলে, সেটাই স্বাভাবিক। শুধু নাটক লিখে সংসার চালানো চলে না, সংসারে সব কাজই করতে হয়।
আমি এই অসম সম্পর্কের ইতি টানবো। জে. এম. বেরি যতই বলে নাট্যকারের ডিভোর্স বিষয়টা পাঠক-দর্শকদের আহত করতে পারে, উত্তরে মেরী অনড়। আমার সিদ্ধান্ত আমার হাতে, আমাকে ইতি টানতে হবে। এক ভুক্তভোগী দর্শক যেন স্বগোতক্তি ভঙ্গিমায় বললো, বিখ্যাত বান্ধবী ভালো বিখ্যাত বউ ভালো না।
ভালো মন্দ যেটাই হোক শিশু পিটার শেষ পর্যন্ত একটা নাটক লিখেই ফেলে। লেডি উরসুলা নামের এক রাজকন্যাকে তার মা বাবা গির্জায় এনেছে, হঠাৎ জল নিষ্কাশন যন্ত্র মাথায় ভেঙে পড়লে যে যার মতো দৌড় লাগায় ।
ভাইদের নিয়ে পিটার অভিনয় করে দেখাতে থাকে মা সিলভিয়া ডেভিসকে এবং নাট্যকার জে.এম বেরিকে। নাটক চলাকালেই হঠাৎ করে মিসেস সিলভিয়া অসুস্থ হয়ে পড়লে জে.এম বেরি ডাক্তার ডেকে আনে। ডাক্তার কিছু টেস্ট করার কথা বললে সিলভিয়া তার অসম্মতি প্রকাশ করে।
প্রকাশ ভঙ্গিমা হবে সাবলীল যেমনটা আমরা জীবনে করি এ কথা মঞ্চ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের বলে নাট্যকার, নির্দেশক জেমস বেরি। এমন সময় অপর নাট্যকার স্যার আর্থার কোনান ডোয়েল জেমসের নতুন নাটকে বিভিন্ন চরিত্র যেমন, পরী, পিটারপ্যান, রেড ইন্ডিয়ান, পাইরেটস, কুমির প্রভৃতি চরিত্রের সম্বন্ধে আগ্রহ প্রকাশ করে।
মঞ্চে যদি নদী, দ্বীপ প্রকৃতি জীবন্ত করা হয় তবে তা ব্যাপক সাড়া জাগাবে। অপর দিকে এই সব পরী, পিটারম্যান, রেড ইন্ডিয়ান, পাইরেটস, কুমির এসবে আস্থা রাখতে পারছে না প্রযোজক চার্লিস। তার বক্তব্য ইংল্যান্ডের দর্শক ডাক্তার, উকিল, অধ্যাপক এবং তাদের স্ত্রীরা।
এই অ্যাবসার্ড নাটক আদৌ তারা গ্রহণ করবে না। জেমস বলে, চার্লিস তুমি মানো তো যে তুমি জিনিয়াস। তবে আর ভয় নেই। তুমি শুধু পঁচিশটা টিকিট আমাকে দেবে কারণ আমার গেস্ট আসবে। টিকিটের খরচা কে দেবে ভেবে অথৈ সমুদ্রে পড়ে প্রযোজক চার্লিস।
অথৈ সমুদ্রে পড়ো আর চোরাবালিতে পড়ো পিটারের একটাই বক্তব্য মায়ের কি হয়েছে তা বলতে হবে জে. এম বেরিকে। পিটার বলে, মা বলেছিল সামনের সপ্তাহে তোমার বাবা তোমাদের নিয়ে মাছ ধরতে যাবে। আমরা মাছ ধরার সব সরঞ্জাম নিয়ে তৈরি অথচ সেদিন সকালেই বাবা মারা গেলেন।
মা আমাদের যেমন মিথ্যা বলেছে এবার মায়ের অসুস্থতায় আপনিও তেমন মিথ্যা বলছেন। প্রতি উত্তরে জে এম বেরি বলে, মা তোমাদের মিথ্যা বলেনি। মা চূড়ান্তভাবে আশা করেছিলেন যে তোমাদের বাবা সুস্থ হয়ে উঠবেন এবং আমি নিজেই জানি না আসলে তোমাদের মায়ের কি হয়েছে। তিনি আমাকে কোনো সহযোগিতা করতে দিচ্ছেন না। রাগে-ক্ষোভে পিটার তার লেখার খাতা ছুঁড়ে ফেলে।
পিটার খাতা ছুঁড়লেও বড় ভাই জর্জ এসে জে. এম বেরিকে রিহার্সেল। রুমে বলে, মা আমাকে ভাইদের নিয়ে খেলতে যেতে বলেছে। কিন্তু আমার ধারণা মা যে গুরুতর অসুস্থ এটা না বুঝতে দেয়ার জন্যে এই বাইরে পাঠিয়ে দেয়া।
এখন আপনাকে বলতে হবে মায়ের কি হয়েছে? জে. এম বেরি যখন বলে দেখ, আমি তোমাদের বাড়ি যাই এটা তোমার দাদী পছন্দ করে না। প্রতি উত্তরে জর্জ বলে সেটা একারণে না যে আপনি তার অপছন্দের বরং এ কারণে তার মেয়ে যেন কোনো কারণে পুনরায় আঘাত না পায়।
অবাক হয় জে. এম বেরি। জে এম বেরি বলে, জর্জ ত্রিশ সেকেন্ড আগেও তুমি শিশু ছিলে কিন্তু এখন পরিণত মানুষ তুমি জর্জ। ইউ আর নাউ গ্রোয়িং জাপ। মাকে টেস্টে রাজি করাতে তুমিই পারবে জর্জ।
মঞ্চে ঝুলতে যেয়ে জর্জের হাত ভেঙে গেলে সে ভাঙা জোড়া লাগানোর শর্তে বলে মা তুমি টেস্ট না করালে আমি এই ভাঙা হাতের যন্ত্রণা নিয়েই চলবো। মা টেস্ট করাতে বাধ্য হয় কিন্তু জেমসকে সে বলে সে ক্যান্সারে আক্রান্ত। নতুন টেস্টের ফলাফল একই আসবে।
আসবে আসবে করে অবশেষে সিলভিয়া ডেভিস এবং তাদের সন্তানদের সাথে মিশে লেখা অভিজ্ঞতা অবলম্বনে নাটক পিটারপ্যানের উদ্বোধনী প্রদর্শনী শুরুর সন্ধ্যা এসে যায়। যখন মা সিলভিয়া, পিটার, জর্জ, মাইকেল, জ্যাক সবাইকে তৈরি করে পাঠাবে এমন সময় সিলভিয়া ডেভিস গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে।
মায়ের কাছে পিটার থাকে। অন্য ভাইয়েরা যায় নাটক দেখতে। নাটকের সংরক্ষিত ছড়ানো ছিটানো পঁচিশটি সিট যখন প্রযোজক বেচেই দেবে ঠিক শেষের সেই মুহূর্তে আসে অনাথ আশ্রমের পাদ্রী এবং শিশুরা। জে.এম বেরি প্রযোজক চার্লিসকে বলে, তাদের (শিশুদের) পা যত ছোট তাদেরকে পাড়ি দিতে হলো তারও বেশি দূর পথ। কারণ, অনাথ আশ্রমের দূরত্ব অনেক দূর পর্যন্ত।
আনন্দ, হাসি, উৎকণ্ঠা, রহস্য, রোমাঞ্চ, যুদ্ধ, জয় সব কিছু নিয়েই মঞ্চ। কাঁপিয়ে নাটক শেষ হলো পিটারপ্যান। দর্শকদের মাঝে হৈহুল্লোড়। নাটক তরুর মুহূর্তে পিটারকে জড়িয়ে মা সিলভিয়া ডেভিস বলেছিল, বাবা তুমি যেদিন নাটক লিখলে সেদিন আমি সব থেকে বেশি গৌরবান্বিত হয়েছি।
তুমি লিখলে আমি খুশি হবো। যাও তুমি নাটক দেখে এসো। দর্শক আসনে বসে। নাটক দেখে পিটার। নাটক দেখতে আসে জে. এম বেরির প্রাক্তন স্ত্রী মেরী ।
মেরীকে নাটক শেষে জে.এম বেরি বলে ভূমি কেমন আছো? বলে অলরাইট। মেরী জানতে চায় তুমি কেমন আছো। জেমস বেরি বলে, আমি দুঃখিত। কথা থামিয়ে দিয়ে মেরী বলে, তুমি দুঃখিত হবে না। পিটারপ্যান তোমার লেখা সেরা নাটক। আর এই সেরা নাটকটি লেখার জন্য তোমার সত্যিই প্রয়োজন ছিল মিসেস সিলভিয়া এবং তার সন্তানদের।
ঐ রাতেই জে.এম বেরি মিসেস সিলভিয়া ডেভিসের সৌজন্যে তার বাড়িতে পিটারপ্যান নাটক মঞ্চায়ন করে। নাটকের একটি অংশে নেভারল্যান্ড দেখায় নাট্যকার। সিলভিয়া সেই নেভারল্যান্ডের উদ্দেশ্যে শেষ যাত্রা করে।
মায়ের মৃত্যুর পর পিটার, জর্জ, মাইকেল, জ্যাকদের দায়িত্ব নেন নাট্যকার জে. এম বেরি। সেই পার্কের চেয়ারে পাশাপাশি জে.এম বেরি এবং পিটার। পিটার বলছে, মা আমার ছেড়া খাতা নিজ হাতে জুড়ে দিয়ে গেছেন।
আমি নাটকটি লিখছি, কিছুতেই থামতে পারছি না। আমার ধারণা মা আমাদের সাথেই আছেন। জে.এম বেরি বলেন, পিটার তোমার মা তোমার খাতার প্রতিটি পাতায় তোমার কল্পনায় মিশে আছেন। তোমার মায়ের শেষ ইচ্ছা ছিল নেভারল্যান্ডে যাওয়ার।

তিনি গিয়েছেন নেভারল্যান্ডে। তোমার যখন ইচ্ছা, যে কোনো সময় তুমি সেখানে যেতে পার। পিটার বলে, কিভাবে। নাট্যকার জে এম বেরি বলে বিশ্বাসের ডানায় ভর করে। পিটার দূরদিগন্তে চোখ ভাসায়। স্বগোতক্তিতে বলে আমি আমার মাকে দেখতে পাচ্ছি, আমি আমার মাকে দেখতে পাচ্ছি। পিটারও শেষ পর্যন্ত খুঁজে পায় নেভারল্যান্ড আর সেখানেই শেষ হয় চলচ্চিত্র ‘ফাইন্ডিং নেভারল্যান্ড’।
