প্রফুল্ল রায় পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রধান সমসাময়িক লেখক। তিনি অবিভক্ত ভারত, অধুনা বাংলাদেশের ঢাকা জেলায়, বিক্রমপুরের আটপাড়া গ্রামে ১১ ই সেপ্টেম্বর, ১৯৩৪ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেন, স্বাধীনতার পর ১৯৫০ খ্রিষ্টাব্দে ভারতে চলে আসেন। বর্তমানে তিনি কলকাতার বাসিন্দা।

প্রফুল্ল রায়
ছোটবেলায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, মন্বন্তর, ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা এবং দেশভাগ প্রত্যক্ষ করেছেন। ছাত্রাবস্থাতেই দেশভাগের কারণে ভারতে চলে আসেন। সমাজের প্রান্তিক মানুষদের খুব কাছ থেকে দেখেছেন। দেখেছেন আন্দামানের উদ্বাস্তুদের জীবন সংগ্রাম, বিহারের অস্পৃশ্য মানুষের প্রতি সমাজের উচ্চবর্ণের অবহেলা, নাগাল্যান্ডের উপজাতি মানুষের সাথে প্রশাসনের প্রতারণা। এই সবই বিভিন্ন সময়ে তাঁর লেখা উপন্যাস ও গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে।

প্রফুল্ল রায়ের রচনাগুলি শহুরে এবং গ্রামীণ উভয় অবস্থাতেই শক্তিশালী এবং সত্যিকারের বিদ্যমান বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে যা পাঠককে বহুমাত্রিক সামাজিক গোলকধাঁধা আবিষ্কার করতে সাহায্য করে। তিনি উপন্যাস এবং ছোটগল্প সহ প্রায় দেড় শতাধিক বই লিখেছেন। তাঁর প্রথম উপন্যাস ছিল “পূর্ব পার্বতী”, যা নাগাল্যান্ডে রচিত হয়েছিল এবং ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত হয়।
তাঁর লেখা কাহিনি অবলম্বনে ২০১০ সাল পর্যন্ত উনিশটি ছবি তৈরি হয়েছে। প্রথম ছবি যাত্রিকের পরিচালনায় নির্মিত এখানে পিঞ্জর (১৯৭১)। যাত্রিক ছাড়াও যে সব পরিচালক তাঁর কাহিনি অবলম্বনে ছবি করেছেন তাঁদের মধ্যে পীযূষ বসু, তপন সিংহ, অজিত লাহিড়ী, দিলীপ মুখোপাধ্যায়, সলিল দত্ত, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত প্রভৃতির নাম উল্লেখের দাবি রাখে। তাঁর লেখা কাহিনি অবলম্বনে চলচ্চিত্র ছাড়াও, দূরদর্শন চিত্র এবং ধারাবাহিক নির্মিত হয়েছে। তিনি বঙ্কিম পুরস্কার, সাহিত্য অকাদেমির পুরস্কার সহ অন্যান্য সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেছেন।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৭১ এখানে পিঞ্জর
- ১৯৭৫ বাঘবন্দী খেলা, রাজা
- ১৯৭৭ এক বিন্দু সুখ:
- ১৯৮১ ফাদার;
- ১৯৮৩ চেনা অচেনা, নাগমতি,
- ১৯৮৪ মোহনার দিকে;
- ১৯৮৭ একান্ত আপন;
- ১৯৮৮ প্রতিপক্ষ,
- ১৯৯০ আবিষ্কার
- ১৯৯৩ পৃথিবীর শেষ স্টেশন,
- ১৯৯৫ চরাচর:
- ১৯৯৯ দায় দায়িত্ব:
- ২০০২ দেশ:
- ২০০৩ মন্দ মেয়ের উপাখ্যান,
- ২০০৫ ক্রান্তিকাল:
- ২০০৭ পিতৃভূমি।
