পূর্ণেন্দু পত্রী

পূর্ণেন্দু পত্রীর জন্ম হাওড়া জেলার শ্যামপুর থানার অন্তর্গত নাউল গ্রামে। ছেলেবেলা থেকেই কবিতা লেখা এবং ছবি আঁকায় উৎসাহ। নিজের হাতে গড়া পুতুল দিয়ে গ্রামের বাড়িতে পুতুল নাচের আসর বসাতেন।

 

পূর্ণেন্দু পত্রী । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

পূর্ণেন্দু পত্রী 

 

গ্রামের স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাস করে ১৯৪৯ সালে কলকাতায় চলে আসেন। ইন্ডিয়ান আর্ট স্কুলে কমার্শিয়াল আর্ট নিয়ে ভর্তি হন। তিন বছর ক্লাস করার পর কোর্স শেষ না করেই স্কুল ছাড়েন। রাজনীতি, কবিতা এবং অলংকরণের কাজে যুক্ত হন।

নিজের সম্পাদনায় কবিতা পত্রিকা ‘অঙ্গীকার’ প্রকাশ করেন। প্রথম কবিতা সংকলন ‘এক মুঠো রোদ’ ১৯৫১ সালে প্রকাশিত হয়। এই সময় থেকেই বাংলা বই-এর প্রচ্ছদ অঙ্কন এবং অলংকরণের কাজ শুরু, সমুদ্রগুপ্ত ছদ্মনামে কলকাতার ইতিহাস চর্চাও শুরু হয় এ সময়ে। পঞ্চাশের দশকেই পূর্ণেন্দু পত্রী কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং প্রবন্ধ লেখক হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। ১৯৫৭ সালে পান মানিক স্মৃতি পুরস্কার।

 

পূর্ণেন্দু পত্রী । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

১৯৬৫ সালে প্রথম ছবি প্রেমেন্দ্র মিত্রর লেখা ‘তেলেনাপোতা আবিষ্কার’ অবলম্বনে স্বপ্ন নিয়ে তৈরির কাজ শুরু করেন। ছবিটি ১৯৬৬ সালে মুক্তি পায়। স্বপ্ন নিয়ে নির্মাণের দিক থেকে দুর্বল এবং ছবিটির চলচ্চিত্রায়ণে কাহিনির বিন্যাস যথাযথ না হলেও পরবর্তী ছবি স্ত্রীর পত্র (১৯৭৩) প্রকৃত অর্থেই চলচ্চিত্র হয়ে ওঠে। রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্প অবলম্বনে নির্মিত এই ছবি তাঁকে জাতীয় পুরস্কার এনে দেয়।

পরের বছর মুক্তি পায় সমরেশ বসুর কাহিনি অবলম্বনে তৈরি ছেঁড়া তমসুক (১৯৭৪)। এই ছবিতে তিনি সমকালীন বাস্তবতাকে তুলে ধরেন। সমাজ সচেতন শিল্পী হিসাবে তাঁর দায়বদ্ধতার প্রমাণও এই ছবি।

 

পূর্ণেন্দু পত্রী । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

১৯৮০ সালে তৈরি করেন মালঞ্চ। আবার তিনি ফিরে আসেন রবীন্দ্রনাথের ছোটগল্পে। রবীন্দ্র রচনায় বিশ্বস্ত পূর্ণেন্দুর এই ছবি সত্যজিতের ঘরানায় তৈরি। তাঁর শেষ কাহিনিচিত্র ছোট বকুলপুরের যাত্রী (১৯৮১)।

সাহিত্য ও শিল্পকর্মের সাথে সাথে তিনি ৫টি কাহিনিচিত্র, ৪টি তথ্যচিত্র এবং ১টি টেলিভিশন চিত্র করেন। পূর্ণেন্দুর বিভিন্ন সময়ে লেখা চলচ্চিত্র সংক্রান্ত প্রবন্ধগুলি নিয়ে সংকলন গ্রন্থ সিনেমা সিনেমা প্রকাশিত হয় ১৯৮৩ সালে।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি — কাহিনিচিত্র —
  • স্বপ্ন নিয়ে (১৯৬৫),
  • স্ত্রীর পত্র (১৯৭২),
  • ছেঁড়া তমসুক (১৯৭৪),
  • মালঞ্চ (১৯৮০),
  • ছোট বকুলপুরের যাত্রী (১৯৮১)।
তথ্যচিত্র —
  • অবনীন্দ্রনাথ (১৯৭৬),
  • বাংলার পট (১৯৭৮),
  • কালীঘাট পট (১৯৮০),
  • গীতগোবিন্দ (১৯৮০)।
টেলিভিশন চিত্র —
  • ক্ষীরের পুতুল (১৯৮২)।
প্রকাশনা—

একাস্তর পত্রিকা ২০০৫ সালে পূর্ণেন্দু পত্রীর উপর বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করে।

Leave a Comment