নিরঞ্জন রায় ছিলেন একজন ভারতীয় বাঙালি অভিনেতা। তিনি গঙ্গা (১৯৫৯) ও মেঘে ঢাকা তারা (১৯৬০) চলচ্চিত্র দুটির জন্য আলোচিত হয়েছিলেন।

নিরঞ্জন রায় । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা
জন্ম বেনারস শহরে। কালীধন ইনস্টিটিউট থেকে ম্যাট্রিক পাস করে আশুতোষ কলেজে ভর্তি হন। ছাত্র জীবন থেকেই বামপন্থী রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে পড়েন এবং প্রথাগত শিক্ষায় ছেদ ঘটে।
পরবর্তীতে জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়ের “মাস থিয়েটার্স” নাট্যদলে যোগ দেন। মহাশ্বেতা দেবীর লেখা “প্রেমতারা” উপন্যাসের নাট্যরূপে নিরঞ্জনের অভিনয় প্রসংশা কুড়ায়।
প্রথম অভিনয় রাজেন তরফদার পরিচালিত গঙ্গা (১৯৬০) ছবিতে নায়ক বিলাসের ভূমিকায়।এই ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছেন নবাগতা সন্ধ্যা রায়। চলচ্চিত্রটি ব্যাপকভাবে সফল হয় এবং নিরঞ্জন রায়ের অভিনয় আলোচনায় আসে। পরের বছরই ঋত্বিক ঘটকের “মেঘে ঢাকা তারা” চলচ্চিত্রে নীতার প্রেমিক হিসেবে আবির্ভূত হন নিরঞ্জন। ছবিটি বাংলা চলচ্চিত্রের সর্বকালের সেরা পাঁচটির একটি।

রাজেন তরফদার ছাড়াও কাজ করেছেন ঋত্বিক ঘটক, পিনাকী মুখোপাধ্যায়, শুরু বাগাড়ী, নব্যেন্দু চট্টোপাধ্যায়, নীরেন লাহিড়ী, দীনেন গুপ্ত, পীযূষ গঙ্গোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত প্রভৃতি পরিচালকের সাথে।
সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে প্রায় চল্লিশটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র সনৎ (মেঘে ঢাকা তারা, ১৯৬০); হিমাদ্রী (আজ কাল পরশুর গল্প, ১৯৮২); নায়িকা অঞ্জলির ভূতপূর্ব প্রেমিক (দূরত্ব, ১৯৮১) প্রভৃতি।
চলচ্চিত্রপঞ্জি —
- ১৯৬০ গঙ্গা, মেঘে ঢাকা তারা
- ১৯৬১ বিষকন্যা:
- ১৯৬২ রক্তপলাশ
- ১৯৬৩ দ্বীপের নাম টিয়ারং, সপ্তর্ষি,
- ১৯৬৬ রাজদ্রোহী, অশ্রু দিয়ে লেখা
- ১৯৬৮ চারণ- কবি মুকুন্দদাস, রক্তলেখা:
- ১৯৬৯ বনজ্যোৎস্না, পান্না হীরে চুপী।
- ১৯৭০ এই করেছো ভালো:
- ১৯৭১ সোনাবৌদি,
- ১৯৭২ আজকের নায়ক
- ১৯৭৯ দৌড়,
- ১৯৮০ বাতাসী:
- ১৯৮১ দূরত্ব,
- ১৯৮২ আজ কাল পরশুর গল্প, বোধন, বন্দিনী কমলা, শুভ রজনী।
- ১৯৮৫ সোনার সংসার;
- ১৯৮৬ পরিণতি, প্রেমবন্ধন,
- ১৯৮৭ চপার, অনুরোধ, নাগপাশ:
- ১৯৮৮ প্রতিপক্ষ, ওরা চারজন,
- ১৯৮৯ বান্ধবী, বন্দিনী
- ১৯৯০ সংক্রান্তি:
- ১৯৯১ বিধিলিপি, নজরবন্দী, রূপবান:
- ১৯৯৩ ভাই আমার ভাই। আত্মজ
- ১৯৯৪ অতিক্রম, দাঙ্গা,
- ১৯৯৫ নাগিন কন্যা।
