নিভাননী দেবীঃ জন্ম কলকাতায়। মা ব্রজরানী ছিলেন মঞ্চাভিনেত্রী। অল্প বয়স থেকেই মঞ্চে অভিনয় শুরু করেন। মঞ্চাভিনয়ের সাথে সাথে নাচ ও গানের তালিম নিয়েছেন। “প্রথম চলচ্চিত্রাভিনয় শঙ্করাচার্য (নির্বাক, ১৯২৭) ছবিতে। ছবিটির পরিচালক ছিলেন কালীপ্রসাদ ঘোষ।

নিভাননী দেবী । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেত্রী
সমগ্র চলচ্চিত্র জীবনে একশো দশটিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন। কাজ করেছেন প্রেমাঙ্কুর আতর্থী, দেবকী বসু, নীতিন বসু, হরি গুঞ্জ, ফণী বর্মা, অমর মল্লিক, প্রমথেশ বড়ুয়া, সুশীল মজুমদার, শৈলজানন্দ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার দাশগুপ্ত, নীরেন লাহিড়ী, অগ্রদূত, নরেশ মিত্র সহ বহু পরিচালকের সাথে।

অভিনীত কয়েকটি উল্লেখযোগ্য চরিত্র অলকা (দেনাপাওনা, ১৯৩১), মতিবিবি (কপালকুণ্ডলা, ১৯৩৩), গীতার মা (জীবনমরণ, ১৯৩৯); শচীদেবী (নিমাই সন্ন্যাস, ১৯৪০) প্রভৃতি। চলচ্চিত্রাভিনয়ের পাশাপাশি পেশাদার রঙ্গমঞ্চেও সুনামের সাথে অভিনয় করেছেন।
প্রায় ৫০ বছরের অভিনয় জীবনে বহু নাটকেই কেন্দ্ৰীয় মহিলা চরিত্র বা সমতুল্য চরিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্র ও নাট্যাভিনয়ের সাথে বেতার নাট্যেও অংশ নিয়েছেন।
চলচ্চিত্রপঞ্জি—
- ১৯২৭ শঙ্করাচার্য,
- ১৯৩১ দেনাপাওনা
- ১৯৩২ চিরকুমার সভা
- ১৯৩৩ কপালকুণ্ডলা, মীরাবাই,
- ১৯৩৫ ভাগ্যচক্র,
- ১৯৩৬ পরপারে,
- ১৯৩৭ ধূমকেতু, ছিন্নহার, প্রভাস মিলন,
- ১৯৩৯ যখের ধন, বড়দিদি, জীবনমরণ, বামনাবতার
- ১৯৪০ ব্যবধান, শাপমুক্তি, অমরগীতি, নিমাই সন্ন্যাস,
- ১৯৪১ কবি জয়দেব, প্রতিশোধ, শ্রীরাধা:
- ১৯৪৩ সহধর্মিণী, জননী, পোষ্যপুত্র
- ১৯৪৫ দোটানা, মানে-না-মানা
- ১৯৪৬ সাত নম্বর বাড়ী, এই তো জীবন,
- ১৯৪৭ দেশের দাবী, রামপ্রসাদ, স্বয়ংসিদ্ধা
- ১৯৪৮ শেষ নিবেদন, সাহারা, শাঁখা সিঁদুর, অরক্ষণীয়া, অনির্বাণ, শ্যামলের স্বপ্ন,
- ১৯৪৯ কবি, দেবী চৌধুরাণী, অনুরাধা,
- ১৯৫০ শ্রীতুলসীদাস, ইন্দিরা, মহাসম্পদ, বিদ্যাসাগর:
- ১৯৫১ বাবলা, সহ
- ১৯৫২ বাগদাদ, নিরক্ষর, চিতা বহ্নিমান, আঁধি,
- ১৯৫৩ হরনাথ পণ্ডিত, বাঁশের কেল্লা, চিকিৎসা সঙ্কট,
- ১৯৫৪ না, প্রফুল্ল, জাগৃহি, অন্নপূর্ণার মন্দির;
- ১৯৫৫ নিষিদ্ধ ফল, রাণী রাসমণি, পথের পাঁচালী, কালিন্দী,
- ১৯৫৬ ভাদুড়ীমশাই, টনসিল, লক্ষহীরা, ছায়াসঙ্গিনী, ধূলার ধরণী, নবজন্ম:
- ১৯৫৭ খেলা ভাঙার খেলা, শেষ পরিচয়, বসন্তবাহার,
- ১৯৫৮ সোনার কাঠি, শ্রীশ্রীমা, তানসেন, লীলাঙ্ক, যমালয়ে জীবন্ত মানুষ;
- ১৯৫৯ নৌকাবিলাস, স্বপনপুরী, পুষ্পধনু, গলি থেকে রাজপথ, কিছুক্ষণ, ছবি, নৃত্যেরই তালে তালে,
- ১৯৬০ মায়ামৃগ, দেবর্ষি নারদের সংসার,
- ১৯৬১ মানিক, ডাইনি, আহ্বান, মধুরেণ,
- ১৯৬২ খনা, হাঁসুলী বাঁকের উপকথা, অভিসারিকা,
- ১৯৬৩ উত্তরায়ণ, সৎ ভাই,
- ১৯৬৪ বিংশতি জননী, সুভা ও দেবতার গ্রাস;
- ১৯৬৫ দোলনা,
- ১৯৬৭ পান্না,
- ১৯৭১ অন্য মাটি অন্য রং
- ১৯৭৩ চিঠি, রাতের রজনীগন্ধা, শ্রীমান পৃথ্বীরাজ,
- ১৯৭৫ রানুর প্রথম ভাগ;
- ১৯৮৮ বিলে নরেন।
