নিতাই ভট্টাচার্য: জন্ম নদীয়া জেলার নবদ্বীপে। প্রাথমিক শিক্ষা নবদ্বীপে শুরু হলেও বি. এ. পাস করার পর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে দর্শনশাস্ত্রে এম.এ. পাঠক্রমে ভর্তি হন। শিক্ষা অসমাপ্ত রেখেই স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন এবং দুই দফায় প্রায় চার বছর কারাদণ্ড ভোগ করেন। নবদ্বীপ হিন্দু স্কুলে কিছুদিন শিক্ষক হিসাবেও কাজ করেছেন। সুভাষচন্দ্রের অনুপ্রেরণায় নদীয়ার জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন।

নিতাই ভট্টাচার্য । বাঙালি চলচ্চিত্র অভিনেতা
শিশিরকুমার ভাদুড়ীর উৎসাহে নাটক রচনার পাশাপাশি অভিনয় করেছেন। জেলে থাকাকালীন তাঁর লেখা ‘মাইকেল মধুসুদন এবং পরবর্তী কালে ‘সংগ্রাম’ ও ‘উড়োচিঠি’ নাটকগুলি মঞ্চস্থ হয়েছিল।
চলচ্চিত্রে প্রথম কাজ কাহিনিকার হিসাবে। তাঁর লেখা কাহিনি অবলম্বনে তৈরি হয় সংগ্রাম (১৯৪৬)। ছবির পরিচালক ছিলেন অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়। তাঁর কাহিনি অবলম্বনে কুড়িটির বেশি ছবি তৈরি হয়েছে।
যে সব পরিচালক তাঁর লেখা কাহিনি অবলম্বনে ছবি করেছেন তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অগ্রদূত, অগ্রগামী, চিত্ত বসু, নীরেন লাহিড়ী, নরেশ মিত্র প্রভৃতি। নিজের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি ছবিগুলির মধ্যে সাতটি ছবির চিত্রনাট্য তার নিজেরই রচনা।

এছাড়াও শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, আশাপূর্ণা দেবী, নিরুপমা দেবী, সুবোধ ঘোষ, অয়স্কান্ত বক্সী, পাঁচুগোপাল মুখোপাধ্যায় ইত্যাদি সাহিত্যিকদের লেখা কাহিনি অবলম্বনে তাঁর তৈরি চিত্রনাট্যে এগারোটি ছবি নির্মিত হয়েছে। কাহিনি, চিত্রনাট্য ছাড়াও গান লেখেন তিনটি ছবির।
আবর্ত (১৯৫০), ওরে যাত্রী (১৯৫১) ছবিগুলির জন্য একক ভাবে এবং সাগরিকা (১৯৫৬) ছবির জন গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের সাথে দ্বৈতভাবে গান রচনাও করেছেন।
চলচ্চিত্রে মাত্র তিনটি ছবিতে অভিনয় করেছেন। সেগুলি হল সুশীল মজুমদার পরিচালিত সর্বহারা (১৯৪৮), দুঃখীর ইমান (১৯৫৪) এবং রাজেন চৌধুরী পরিচালিত ওরে যাত্রী (১৯৫১)।
চলচ্চিত্রপঞ্জি—
- ১৯৪৬ সংগ্রাম:
- ১৯৪৭ স্বপ্ন ও সাধনা:
- ১৯৪৮ পুরবী, সমাপিকা, সর্বহারা
- ১৯৪৯ বন্ধুর পথ, যার যেথা ঘর
- ১৯৫০ সঞ্চালী, আবর্ত, গরবিনী,
- ১৯৫১ কুলহারা, ওরে যাত্রী, নিয়তি:
- ১৯৫২ শুভদা
- ১৯৫৩ কাজরী, নিষ্কৃতি,
- ১৯৫৪ যদুভট্ট, দুঃখীর ইমান, অগ্নিপরীক্ষা
- ১৯৫৫ দেবী মালিনী, সবার উপরে, বীর হাম্বার:
- ১৯৫৬ সাগরিকা, শরনারায়ণ লাক্ষ, গোবিন্দদাস, শিল্পী, ভোলামারার শ্যামলী, রিবামা:
- ১৯৫৭ কড়ি ও কোমল, মধুমালতী, মাত্রা হলো শুরু, পথে হল দেরী।
