ইউরোপের চলচ্চিত্র সুইমিংপুল 

আমাদের আজকের আলোচনার বিষয়ঃ ইউরোপের চলচ্চিত্র সুইমিংপুল  ।

ইউরোপের চলচ্চিত্র সুইমিংপুল

 

ইউরোপের চলচ্চিত্র সুইমিংপুল 

 

সুইমিংপুল

চলচ্চিত্রের কাহিনী সংক্ষেপ :

ব্রিটিশ গোয়েন্দা উপন্যাসিক সারাহ মর্টন যেভাবে তার গোয়েন্দা উপন্যাস লিখলেন সেই প্রেক্ষাপট নিয়ে কাহিনী চলচ্চিত্র ।

দেশ                  :  ফ্রান্স এবং ব্রিটেনের যৌথ নির্মাণ ফ্রকোস অজোন

পরিচালক        : ফ্রকোস অজোন

লেখক             : ফ্রকোস অজোন

                        এমনিডলি বার্নেহিয়াম

রিলিজ ডেট   : ২১ মে ২০০৩

মুখ্য চরিত্র      : কারণতি রামপলিং

                         লুদিভিন সাগনিয়ার

                         চার্লেস ভ্যাল

সুইমিংপুল

লেখক যখন গল্প কিংবা উপন্যাস লেখেন, সেই গল্প-উপন্যাসের সৃষ্ট চরিত্রগুলো কি শুধুই লেখক কিংবা লেখিকার কল্পনা নাকি বাস্তবে দেখা—এ প্রশ্ন কমবেশি পাঠক-পাঠিকাদের তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়। আর গোয়েন্দাধর্মী লেখা হলে তো কথাই নেই।

কাহিনীচিত্রের মধ্য দিয়ে ফ্রান্সের খ্যাতনামা পরিচালক যার ইতোমধ্যে নির্মাণ সংখ্যা ৩০ ছুঁতে যাচ্ছে, সেই পরিচালক ফ্রকোস অজোন নির্মাণ করলেন চলচ্চিত্র ‘সুইমিংপুল’। যেখানে একজন ব্রিটিশ গোয়েন্দা উপন্যাস লেখিকা সারাহ মর্টন কীভাবে একটা আস্ত থ্রিলার উপন্যাস লিখলেন সে ঘটনাই ফুটে উঠেছে।

চলচ্চিত্রের শুরুতেই দেখা যায় ব্রিটেনের একজন প্রতিষ্ঠাতা প্রকাশকের ঘরে লেখিকা সারাহ মর্টন। বাংলাদেশে লেখক-প্রকাশকদের সম্পর্কটা তিক্ত-মধুর হলেও ব্রিটেনের প্রকাশকরা মোটামুটি লেখক-লেখিকাদের প্রতি সচেতন।

ফলে লেখক-লেখিকারা লেখার ক্ষেত্রে কোনো অসুবিধায় পড়লে প্রকাশকরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। লেখিকা সারাহ মর্টন বিখ্যাত । কিন্তু লেকক জেমস এবং রুদ্ধ রেনজেল যেভাবে লিখছেন তাতে সর্বোচ্চ অবস্থানে থাকাটা সারাহ মর্টনের জন্য শুধু ঝুঁকিপূর্ণই নয় বরং পাঠকসমাজ থেকে ছিটকে যাওয়ার মতো।

উপরন্তু নিত্যনতুন আইডিয়া দেয়ার ব্যাপারে জেমস এবং রেনেজেল সিদ্ধহস্ত। তাই সারাহ মর্টনকে লিখতে হবে এমন কিছু যা সর্বশেষ অবস্থায় নতুন এবং ব্যতিক্রম। কিন্তু লিখবে যে তেমন গল্প কোথায়। থানায় গেলাম, ক্রাইম খবর হাতে পেয়ে ইনভেস্টিগেশনে গেলাম এবং তারপর তা মনের মাধুরী মিশিয়ে, কল্পনার ডানায় ভর করে লিখে ফেললাম তাতে গোয়েন্দাধর্মী লেখার ক্ষেত্রে নতুনত্ব কোথায়।

সেভাবে তো জেমস ও রেনজেল লিখছেন। ফলে সারাহ মর্টনের মতো লেখিকার বিশেষত্ব কোথায়। এটাই যখন সারাহ মর্টনের মনের অবস্থা তখন প্রকাশক জোনৰোসলোড বলেন একটা চমৎকার অফারের কথা। তিনি লেখিকাকে।

পরামর্শ দেন, দেখো আমরা প্রকাশক তোমরা লেখক। তোমাদের লেখক- লেখিকাদের মনের অবস্থা আমাদের মতো নয়। তোমাদের মনোজগতে নিত্যনতুন চরিত্র, ঘটনার আনাগোনা। সেসব চরিত্র ঘটনাকে ঠিকমতো দেখতে, কাছ থেকে দেখতে দরকার একটা শান্ত মন।

পুকুরের জল যদি না শান্ত হবে তবে সে জলের ওপর নিজের মুখ দেখবে কীভাবে মিস রাইটার সারাহ মর্টন। তাই বলি কী তুমি এ ব্রিটেন থেকে সোজা ইংলিশ চ্যানেলের পাতাল ট্রেনে চড়ে ফ্রান্সের দক্ষিণে লিউবেরন শহরে চলে যাও। সেখানে আমার বাংলো বাড়ি।

বিশাল বাড়ি, ফুলের বাগান, মাঠভর্তি সবুজ ঘাস, সার্বক্ষণিক সহযোগিতার জন্য বয়োজ্যেষ্ঠ কেয়ারটেকার, শান্ত-স্নিগ্ধ নীলজলের সুইমিংপুল। সেখানে তুমি সম্পূর্ণ তোমার মতো থাকবে। উপরন্তু নতুন পরিবেশ, তোমার নতুন উপন্যাসের নতুন উপকরণ হয়ে যে ধরা দেবে না তা কি কেউ বলতে পারে।

সারাহ মর্টন ফ্রান্সের এই বাংলোয় এসে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে যখন লিখতে বসেছে তখন কোথা থেকে এক অনাহত। নামে যেমন জুলি, চেহারায় তেমন ফ্রান্সের অনিন্দ্যরূপের পরী। জুলি প্রকাশক জোন বোসলোডের কন্যা। জুলির বেপরোয়া জীবন।

সে রাতে ড্রিঙ্ক করে সেক্স পার্টনার নিয়ে ঘরে ফেরে, ডিস্কো গান বাজিয়ে উদ্যম নাচ করে, দিনের বেলা সুইমিংপুলের জলে লাফিয়ে দাতার কাটে যা সবই লেখিকা সারাহ মর্টনের শান্তমনের বিপরীত। শেষাবধি লেখিকা সারাহ মর্টন নিজেই বাংলোর বাইরে যায়।

অশান্ত সময়ে লেখিকা ভাবতে চায় কী সেই কারণ যে কারণে জুলি এতটা বেপরোয়া। একটা মানুষকে ভালোভাবে বুঝতে তার ডায়েরি পড়াটাই একটা ভালো উপায়। জুলির ব্যক্তিগত ডায়েরি পড়তে পড়তে রহস্যধর্মী উপন্যাসের লেখিকা সারাহ মর্টন নতুন এক রহস্যের ঘ্রাণ পায়।

 

ইউরোপের চলচ্চিত্র সুইমিংপুল 

 

বাবা লন্ডনে, মেয়ে ফ্রান্সে তবে জুলির মা কোথায়? তিনি জীবিত না মৃত? জীবিত হলে কোথায় থাকে? একমাত্র মেয়েকে একলা ফেলে একজন মা কীভাবে দূরে থাকতে পারে? জুলি কি প্রশ্নের উত্তর দেবে? প্রশ্ন অনেক কিন্তু উত্তর নেই ।

একদিন হোটেলের ওয়েটার ফ্রাঙ্ককে নিয়ে জুলি রাতে ঘরে ফেরে। রাতে নাচের আসরে লেখিকা আর ফ্রান্স একসঙ্গে নাচে। জুলির মনে আজন জ্বলে। মেয়ে হয়ে জুলি কিছুতেই তার পছন্দের মানুষটিকে অপর মেয়ের হাতে তুলে দিতে না পেরে ফ্রাঙ্ককে সঙ্গে নিয়ে সুইমিংপুলের জলে ঝাঁপ মারে।

অপরদিকে লেখিকা সারাহ মর্টন তার পছন্দের ফ্রাঙ্ককে যে কিছুতেই ছাড়তে চাইছে না। ফলে একটা প্লেট তুলে ছুঁড়ে ফ্রান্সের দারির কথা ফ্রাঙ্ককে নিশ্চিত করে। ফ্রাঙ্ক জল ছেড়ে উঠে পড়ে ।। 

চলচ্চিত্রের শেষদিকে জানা যায়, সে রাতেই ফ্রাঙ্ক মারা যায়। জুলি হিংসায় উন্মুক্ত হয়ে ক্রোধের বশে ফ্রাঙ্ককে মেরে ফেলে। সব জেনে লেখিকা জুলিকে বাঁচাতে আসে। জুলিকে বাঁচাতে লেখিকা সারাহ মর্টনের ত্যাগ দেখে জুলি বিস্মিত। লেখিকার মধ্যে মাতৃত্বের ছাপ দেখে জুলি এতদিনের জমা ব্যথা প্রকাশ করে। জুলির মা ফ্রান্সের নিসে থাকে না সেও মৃত।

মৃত্যু হয়েছে অ্যাক্সিডেন্টে। অ্যাক্সিডেন্টটা ঠিক কি তা সে প্রকাশ করে না। তবে দর্শক বোঝে ফ্রাঙ্কের ক্ষেত্রে যেমন জুলি দায়ী, মায়ের ক্ষেত্রে প্রকাশক বাবা দায়ী। জুলির ঘটনা দেখেও যেমন লেখিকা চুপ থাকবে তেমনি বাবার ঘটনা দেখে চুপ আছে মেয়ে গুলি।

জুলি ক্ষমা করেছে বাবাকে, লেখিকা ক্ষমা করলো জুলিকে। মানুষ তো স্বভাবতই উপকারের প্রতিদান দিতে চায়। জুলি তার মায়ের লেখা উপন্যাস তুলে দেয় লেখিকা সারাহ মর্টনের হাতে। জুলি বলে, আপনি আপনার লেখার মধ্যে মায়ের লেখাটা যুক্ত করলে আপনার লেখার মধ্যে আমার মা বেঁচে থাকবে।

লেখিকা সারাহ মর্টন লেখা সম্পন্ন করে পাণ্ডুলিপির দুই কপি প্রকাশককে দেয়। প্রকাশক জোন বোসলোড পড়ে ভীত কারণ কিছুটা হলেও তার জীবনের আখ্যানই যেন এবার সারাহ মর্টনের লেখার উপকরণ। অপরদিকে প্রকাশক নিশ্চিত এটাই হবে এবারের বেস্টসেলার।

 

ইউরোপের চলচ্চিত্র সুইমিংপুল 

 

জুলি একবার সব এভিডেন্স শেষ করে লেখিকাকে বলেছিল তোমার লেখাটা এবার পোড়াও। লেখিকা বলেছিল তোমার কোনো ভয় নেই। এটা কোনোদিন এভিডেন্স হবে না। কাহিনী কখনো বাস্তব নয়। মেয়ে জুলির মিষ্টি হাসি আর লেখিকা সারাহ-মর্টনের হাত নাড়ার মধ্য দিয়ে লেখা ও চলচ্চিত্র উভয়ই শেষ হয়।

Leave a Comment